বুধবার (২ জুন) সকালে উপজেলার কালীপুর ইউপির রামদাশ মুন্সির হাট এলাকার বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত বাবু কক্সবাজার জেলার চকরিয়ার ডুলাহাজারা ইউপির ৫ নম্বর ওয়ার্ডের রনজিত কুমার শীলের ছেলে। রামদাশ মুন্সির হাট এলাকার আলী আহমদের বাসায় ভাড়া থেকে একটি কোম্পানির ডিলার হিসেবে ব্যবসা করতেন তিনি।
আরো পড়ুন:চট্টগ্রামের পরিবারের সঙ্গে অভিমান করে কিশোরীর আত্মহত্যা
জানা যায়, বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকদের কাছে মালামাল বিক্রি করে টাকা নিতে না পেরে কোম্পানির টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন বাবু। একপর্যায়ে সেই টাকা পরিশোধের জন্য ঋণগ্রস্ত হতে হয় তাকে। কিন্তু বাবার কাছে টাকা চেয়ে না পাওয়ায় আত্মহত্যার পথ বেছে নেন তিনি।
এ বিষয়ে বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিউল কবির জানান, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।
বাবু কুমার শীল চিরকুটে যা লিখে যান তার কিছু অংশ হুবহু তুলে ধরা হলো–
‘অনেক কষ্ট পাওয়ার পর আমি কাজটা করতে বাধ্য হচ্ছি। আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী আমার বাবা। সবাই হয়তো ভাবছেন ছেলে বাবার নামে কেন এই কথাগুলো বলতেছে। আমার বাবার নিজের সুখের জন্য সবকিছু করছে। কিন্তু আমাদের সবাইকে কষ্ট দিয়ে। আমি আমার জীবনে বাবার সুখ পাই নাই। এমন একটা কথা বললে আপনারা অবাক হবেন। করোনা যখন প্রথম বাংলাদেশে আসে তখন সবাই ভয়ে আছে। কিন্তু আমার বাবা আমাকে একবারও ফোন করলো না যে আমি কেমন আছি। আপনারা ভাবুন। নিজের সুখের জন্য আরেকটা বিয়ে করছে। এলাকাবাসী কিছু লোকের কথা। বাবা আমিতো মরে যাচ্ছি কিন্তু আমার মৃত্যুর পর যেন আমার পরিবারের সবাইকে একটু সুখে রেখো। এই কথাগুলোর পর যেন আমার বাবাকে পুলিশে না ধরে।’##