গত ১৫ বছর ভোট ডাকাতি হয়েছে, দিনের ভোট রাতে হয়েছে। এবারও পোস্টাল ব্যালট ডাকাতি হতে দেখা যাচ্ছে। তাই সবাইকে ভোট ডাকাতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তারেক রহমান বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষকে বিজয়ী করলে দেশের মানুষকে স্বাবলম্বী করা হবে। নতুন করে খাল খনন, কৃষকদের কার্ড প্রদান, নারীদের বিশেষ সহায়তা এবং নানা কর্মসূচির মাধ্যমে বেকার সমস্যার সমাধান করে দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। লাখ লাখ বেকারের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করতে চাই আমরা।
ফেনী জেলা বিএনপির আহবায়ক শেখ ফরিদ বাহারের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলালের সঞ্চালনায় রোববার (২৫ জানুয়ারী) সন্ধ্যায় ফেনী সরকারি পাইলট হাই স্কুল মাঠে নির্বাচনি মহাসমাবেশে তারেক রহমান এসব কথা বলেন।
এসময় আরও বক্তব্য রাখেন- ফেনী-১ আসনের প্রার্থী রফিকুল আলম মজনু, ফেনী-২ আসনের অধ্যাপক জয়নাল আবেদিন ভিপি, ফেনী-৩ আসনের প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টু, নোয়াখালীর জয়নাল আবেদিন ফারুক, লক্ষ্মীপুরের শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক গাজী হাবীব উল্যা মানিক ও আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী প্রমুখ।
তিনি বলেন, যারা বেহেশতের টিকিট দেওয়ার কথা বলে ভোট চাইছেন, তারা নিজেরা শিরক করছেন, ভোটারদেরও ঠকাচ্ছেন। এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, দলটি সম্পর্কে নতুন করে জানার কিছু নেই। মুক্তিযুদ্ধের সময়ই তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে মানুষ জানে।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আমরা যত পরিকল্পনার কথা বলেছি, সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে দুই বিষয়ের ওপর নজর দিতে হবে। এই দুটো বিষয় বাংলাদেশকে, বাংলাদেশের জনগণের প্রাপ্য অধিকার থেকে বিগত দিনগুলোতে বঞ্চিত করেছে। অতীতে বিএনপি যতবার দেশ পরিচালনা করেছে, বিএনপি প্রমাণ করে দেখিয়েছে- এই দুটো বিষয় একমাত্র বিএনপিই সফলভাবে করতে পারে।
তিনি বলেন, বহু মানুষের প্রাণের বিনিময়ে আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে যাচ্ছি; কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি, এই দেশের ভেতরে কিছু মহল ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করছে। গত কয়েক দিনে আপনারা দেখেছেন, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে পাঠানো পোস্টাল ব্যালট কিভাবে ডাকাতি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ক্ষমতায় গেলে যেকোনো মূল্যে বিএনপি সরকার দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে- এটা দেশবাসীর কাছে আমাদের অঙ্গীকার। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত যে সরকার ক্ষমতায় ছিল, তারা দুর্নীতি করে দেশকে পিছিয়ে দিয়েছিল। এরপর বিএনপি ক্ষমতায় এসে দুর্নীতি রোধ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যায়। দুর্নীতি যেই করুক তাদের বিরুদ্ধে দেশের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, আইনের কাছে অপরাধীর কোনো পরিচয় নেই। বিএনপি অতীতেও প্রমাণ করেছে এগুলো।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, একটি লক্ষ্য সামনে রেখে আমরা এখানে একত্রিত হয়েছি। একটি পরিবর্তনকে সামনে রেখে আমরা একত্রিত হয়েছি। এ মাটিতে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার জন্ম হয়েছে। তার সম্মান রক্ষার দায়িত্ব আপনাদের। আমাদেরও দায়িত্ব আপনাদের সুখ-দুখের সাথী হয়ে থাকা। এ জেলার রক্ত রয়েছে দেশনেত্রীর খালেদা জিয়ার শরীরে।
তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হয়েছিল, সেই স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন। বিগত ১৬ বছর মানুষের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, বাকস্বাধীনতা ও ব্যক্তি স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, জনগণের সেই অধিকার ফিরিয়ে দিতে ছাত্র-জনতা আন্দোলন করেছিল।
সভায় ফেনী-নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুর তিন জেলার ১৩ জন বিএনপি দলীয় প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি এদের ভোট দিয়ে বিজয়ী করে তাদের কাছ থেকে আপনারা আপনাদের পাওনা বুঝে নিবেন।