বিয়ে বাড়িসহ দুই পরিবারের ১৬ জন সদস্যকে অজ্ঞান করে মালামাল লুট করে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে উপজেলার বানিয়াখালী বাজারসংলগ্ন এলাকার হাবিবুর রহমান ও নারায়ণ চকিদারের পরিবারে এ ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২০ এপ্রিল) সকালে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় পরিবারের সদস্যদের শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৭ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
হাবিবুর রহমানের পরিবার জানায়, শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) রাতে নববিবাহিত মেয়ে-জামাইসহ আত্মীয় স্বজন নিয়ে মোরেলগঞ্জ উপজেলার বানিয়াখালী বাজারসংলগ্ন হাবিবুর রহমান তোতা মিয়ার পরিবারে ছিল উৎসবের আমেজ। এ সুযোগে দুর্বৃত্তরা খাবারের সঙ্গে মিশিয়েছে চেতনানাশক। চেতনানাশক মেশানো খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন নববিবাহিত জামাই-মেয়েসহ পরিবারের ১২ সদস্য। চেতনানাশক মেশানো খাবার খেয়ে হাবিবুর রহমানের প্রতিবেশী নারায়ণ চন্দ্রের বাড়ির চার সদস্যও অসুস্থ হয়েছেন। দুই বাড়ি থেকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুটে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। তবে কি পরিমাণ স্বর্ণালংকার ও টাকা খোয়া গেছে সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পরিবারগুলো।
বরের বাবা মো. মনির তালুকদার বলেন, সোমবার হাবিবুর রহমানের মেয়ের সঙ্গে আমার ছেলের বিয়ে হয়। ছেলে ও ছেলের বউসহ বেশকিছু আত্মীয় স্বজনরা হাবিবুর রহমানের বাড়িতে ছিল। সকালে অচেতন অবস্থায় সবাইকে আমরা হাসপাতালে ভর্তি করেছি। বাড়ির সবকিছু লুটে নিয়েছে তারা।
নারায়ণ চন্দ্রের ছেলে জীবন চন্দ্র বলেন, কীভাবে কি হলো জানি না। বাবা-মা এখনো সুস্থ হয়নি। আমাদের মালামাল ফেরত চাই আমরা।
শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আশফাক আহমেদ বলেন, দুটি পরিবারের ১৬ জন অসুস্থ অবস্থায় এসেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এদের চেতনানাশক খাওয়ানো হয়েছে। এদের মধ্যে সাত জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সামছউদ্দিন বলেন, ঘটনা শুনেছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।