নিরাপত্তার জন্য আশ্রয় নিতে আসা এক গৃহবধূকে স্বামীর কাছ থেকে আলাদা করে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে দায়িত্বরত দুই আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি রোববার (১১ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুই আনসার সদস্যকে আটক করেছে মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশ। একই সঙ্গে তাদের আনসার ও গ্রাম-প্রতিরক্ষা বাহিনী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
আটকরা হলেন- কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার আশুতিয়াপাড়া গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে আবু সাঈদ (২৬) এবং টাঙ্গাইল জেলার ভূঞাপুর উপজেলার ফলদা গ্রামের আজাহার আলীর ছেলে সাহাদত হোসেন (৩২)।
মানিকগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই অভিযুক্তদের আটক করা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
ভুক্তভোগীর স্বামী ও পুলিশ জানায়, রোববার (১১ জানুয়ারী) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে ভুক্তভোগী নারী তার স্বামীর সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ থেকে এসে ব্যাটারিচালিত ভ্যানে করে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেতিলা এলাকায় নানাবাড়ির উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। পথে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছলে ভ্যানের ব্যাটারির চার্জ শেষ হয়ে যায়। নিরাপত্তার কথা ভেবে তারা সদর হাসপাতালের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন।
এ সময় হাসপাতালের গেটে দায়িত্বরত আনসার সদস্য শাহাদাৎ হোসেন ও আবু সাঈদ তাদের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে হাসপাতালের ভেতরে নিয়ে যান। পরে হাসপাতালের নতুন ভবনের নিচতলায় স্বামীকে রেখে দ্বিতীয়তলায় ভুক্তভোগী নারীকে নিয়ে যাওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে- সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই দুই আনসার সদস্য তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী নিচতলায় নেমে স্বামীকে পুরো বিষয়টি জানান। স্থানীয়দের সহায়তায় তারা সদর থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হাসপাতালে দায়িত্বরত সব আনসার সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এ সময় ভুক্তভোগী নারী অভিযুক্ত দুই সদস্যকে শনাক্ত করলে পুলিশ তাদের আটক করে থানা হেফাজতে নেয়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, রাত ৩টার দিকে স্বামীকে আলাদা জায়গায় আটকে রেখে ওই দুই আনসার সদস্য তার স্ত্রীকে ধর্ষণ করেন।
এ ঘটনায় সোমবার (১২ জানুয়ারী) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম হাসপাতালে গিয়ে ভুক্তভোগী নারীকে দেখে আসেন এবং চিকিৎসার সার্বিক খোঁজখবর নেন।
এসময় তিনি বলেন, বাদীর অভিযোগের ভিত্তিতে দুই আনসার সদস্যকে আটক করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মানিকগঞ্জ জেলা কমান্ড্যান্ট কামরুজ্জামান জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সদর উপজেলার আনসার অফিসারকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত দুই সদস্যকে তাৎক্ষণিকভাবে বাহিনী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ও অমানবিক ঘটনা। কোনো ব্যক্তির অপরাধের দায় বাহিনী বহন করবে না। বিষয়টি তদন্তে দুই সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা চাই অভিযুক্তরা সর্বোচ্চ শাস্তি পাক।
সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন বলেন, ঘটনাটি জানার পর হাসপাতালের দায়িত্বরত সব আনসার সদস্যকে ডেকে এনে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়। পরে পুলিশ এসে তাদের আটক করে নিয়ে যায়।