এ পৃথিবীতে কেউই চিরকাল বেঁচে থাকেন না। তবে পৃথিবীতে যতদিন মানুষ বেঁচে থাকে ততদিন সুখ-শান্তিতে থাকতে চায়। তবে সকলের চাওয়া যে পূর্ণ হবে তা আবশ্যক নয়। এটাকে কেউ বলে প্রকৃতির নিয়ম আবার কেউবা বলে বিধির বিধান। ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর শহরের দক্ষিণ মৌড়াইলের মিলন মিয়ার ছেলে মাখন মিয়া। পৃথিবীতে অস্বাভাবিক ওজন নিয়ে জীবন যুদ্ধে হেরে গেলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৩০২ কেজি ওজনের মাখন মিয়া। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়ে ছিল ৪০ বছর।
মাখন মিয়া জীবনের শুরুতে ওজন স্বাভাবিক থাকলেও পরে ধীরে ধীরে তা বাড়তে থাকে। মৃত্যুকালে তার ওজন দাঁড়ায় ৩০২ কেজি। অস্বাভাবিক এই ওজন নিয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছিলেন মাখন মিয়া। অবশেষে ওজনের কারণে জীবন যুদ্ধে হেরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন মাখন মিয়া।
গতকাল সোমবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর জেনারেল হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।
মাখন মিয়ার পরিবার সূত্রে জানা যায়, মাখন মিয়া ২০ বছর বয়স পর্যন্ত স্বাভাবিকই ছিলেন। তারপর হঠাৎ বাড়তে থাকে তার শরীরের ওজন। শেষ পর্যন্ত তার ওজন গিয়ে দাঁড়ায় ৩০২ কেজিতে। অস্বাভাবিক ওজন বৃদ্ধির চিকিৎসাও করিয়েছেন একাধিকবার, কিন্তু সেই ওজনের কারণেই ব্যাহত হচ্ছিলো চিকিৎসা।
আরও পড়ুন- কালিয়াকৈরে খাদ্য বিষক্রিয়ায় দুই শতাধিক আনসার অসুস্থ
গত কয়েক দিন যাবৎ মাখন মিয়া শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগে ভুগছিলেন। তার চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে গিয়ে এখন নিঃস্ব পুরো পরিবার। দুই সন্তান ও স্ত্রী নিয়ে খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকাই ছিল কষ্টকর।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগ কর্তব্যরত ডাক্তার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, গত সোমবার রাতে মাখন গুরুত্বর অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বজনরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তার ওজনের কারণে হাসপাতালের ভেতরে জরুরি বিভাগে তাকে প্রবেশ করানো সম্ভব হয়নি। হাসপাতালের গেটেই তাকে চিকিৎসা দিতে হয়েছে।
তিনি আরও জানান, শ্বাসকষ্টের সমস্যা ছিল মাখনের। বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে আসার কিছুক্ষণ পর তার ইসিজি করা হয়। এর কিছুক্ষণ পরেই মারা যান মাখন।