রক্তদান করা নামাজের মতই আরেকটি শ্রেষ্ঠ ইবাদত। ইসলামে রক্তদান করার জায়েজ রয়েছে। এমনকি একজন মুসলমান ব্যক্তি যেকোনো নওমুসলিমকেও রক্ত দিতে পারবে এমন নিয়মও ইসলামে আছে।
এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কুরআনে বলেন, “যদি কোনো মানুষের জীবন বাঁচাও তাহলে যেনো পুরো মানুষজাতিরই জীবন বাঁচালে।” পবিত্র কুরআন শরীফের এ আয়াত দ্বারাই স্পষ্ট বুঝতে পারা যায় এখানে বাঁচানো বলতে শুধু মুসলিমদের বুঝানো হয়নি নওমুসলিমদেরও বুঝানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: আত্মহত্যা করা কেনো মহাপাপ
একজন মুসলমান ব্যক্তি ৩টি শর্তে রক্তদান করতে পারবে। প্রথমটি হচ্ছে রক্তদান করার বিনিময়ে কোনো টাকা গ্রহণ করতে পারবে না। দ্বিতীয় শর্তটি হচ্ছে নিজের শরীরের ক্ষতি হবে এমন প্রতীয়মান হলে রক্তদান করা যাবে না। আর তৃতীয় শর্তটি হচ্ছে জরুরী রক্তের প্রয়োজন হলে।
এই ৩টি শর্তে রক্তদান করলে এটি ইবাদত বলে গণ্য হবে। মেডিকেল সায়েন্সের পরিভাষায়, যদি কোনো ব্যক্তি রক্তদান করে তাহলে সেই রক্ত ৩ মাসের মধ্যেই পুনরায় তৈরী হয়ে যায়। আর রক্তদান না করলেও এই রক্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে নষ্ট হয়ে যায়।তাছাড়া রক্তদান করার মাধ্যমে ৩ মাস পর পর অটোমেটিক নিজের নিয়মিত মেডিকেল চেকআপ করানো হয়ে যায়। এতে করে অনেক রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় এবং নিজের স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি পায়।
আমাদের বর্তমান সমাজে রক্তদান নিয়ে কিছু কুসংস্কার বিদ্যমান রয়েছে। অনেকেই বলে থাকে রক্তদান করলে শরীর শুকিয়ে যাবে, আবার কেউ বলে অসুস্থ হয়ে যাবে। যা মানুষের সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ধারণা। রক্তদান করার মাধ্যমে একজন মুসলমান দ্বারা আরেকজন মুসলিম-নওমুসলিম উভয়ই উপকৃত হয়। যা অনেক বড় ফযিলতের কাজ।
আরও পড়ুন :জানাযার নামাজের সময় জুতা খুলে ফেলতে হয় কিনা
পবিত্র কোরআন পাকে মহান আল্লাহ বলেন, নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য হারাম নিষিদ্ধ করা হয়েছে মৃত জীব,রক্ত,শুকরের গোশত এবং যেসব জন্তু আল্লাহ ছাড়া অন্যের জন্য উৎসর্গ করা হয়ে থাকে। অবশ্য যে লোক অনন্যোপায় হয়ে পড়ে এবং নাফরমানি ও সীমালংগনকারী না হয় তার জন্য কোনো পাপ নেই। নিঃসন্দেহে আল্লাহ মহান ক্ষমাশীল, অত্যন্ত দয়ালু।
এ আয়াতে রক্ত বিষয়ক দুইটি বিষয় সুস্পষ্ট করেছে। একটি হচ্ছে রক্ত হারাম বা নিষিদ্ধ আরেকটি হচ্ছে অন্যান্য উপায় হলে তা বৈধ। অর্থাৎ একজন সুস্থ-সবল মুসলিম ব্যক্তি অবশ্যই সময়মতো রক্ত দিতে পারবে। এতে ইসলামে কোনো বিধি-নিষেধ নেই। স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচীর মতো মহৎ অনুষ্ঠানে প্রত্যেক মুসলমান ব্যক্তিরই অংশগ্রহণ করা উচিত।