গভীর রাতে মাইকে ওয়াজ ইসলামসম্মত নয়। মহান আল্লাহ তা’আলা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কে উদ্দেশ্য করে বলেছেন,“আপনি আপনার প্রভুর পক্ষ থেকে যা কিছু নাযিল হয়েছে তা (মানুষের কাছে) পৌঁছে দিন।”
মহান আল্লাহ তা’আলার নির্দেশ মোতাবেক রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এ ইসলামের বাণী আমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। কুরআনে বহুবার বলা হয়েছে , “রাতকে করেছি আবরণ আর দিনকে করেছি জীবিকা সংগ্রহের মাধ্যম।”
আরও পড়ুন : স্ত্রীর সঙ্গে কয়েদীদের একান্ত সাক্ষাৎ ও জেলখানায় ধর্মীয় মোটিভেশন
অর্থাৎ রাতকে আল্লাহ তা’আলা আমাদের বিশ্রামের জন্য সৃষ্টি করেছেন , রাতে কতটুকু ইবাদত করবো রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তা আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন। এশার সালাত আদায় করে অপ্রয়োজনীয় কাজ এবং কথা বলা থেকে বিরত থাকতে হবে।
হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) আরও বলেন, একজন ব্যক্তিকে দ্রুত ঘুমিয়ে যেতে হবে যাতে পুনরায় সে ঘুম থেকে দ্রুত জাগ্রত হতে পারে। কারণ তাকে ঘুম থেকে জাগতে হবে যেনো সে তাহাজ্জুদের সালাত পড়তে পারে এবং ফজরের সালাত যেন তার কাজা না হয়।
কিন্তু আমাদের দেশে ওয়াজ মাহফিল এর আয়োজন রাত ছাড়া দিনের বেলায় করতে দেখা যায় না। এতে করে যারা অসুস্থ এবং যারা রাতে তাহাজ্জুত পড়বে তাদের ঘুম নষ্ট হয়। এছাড়া যারা রাতে ওয়াজ করে এবং শোনে তাদের সবাই ফজরের সালাত আদায় করতে পারে কিনা সন্দেহ আছে।
অধিকাংশই ব্যক্তিরাই ফজরের সালাত আদায় করতে ব্যর্থ হয় রাতের ঘুমকে নষ্ট করার কারণে। সুতরাং যেই আলোচনার কারণে তারা ফরজ সালাত আদায় করতে পারল না তাদের সেই আলোচনা এবং আলোচনায় অংশগ্রহণ করাও নিষিদ্ধ। ফলে এটি ইসলামের সৌন্দর্যও নষ্ট করে।
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, তিন ব্যক্তি শুধুমাত্র রাতে জাগ্রত থাকতে পারবে। ১. যে তাহাজ্জুত নামায পড়বে ২. যারা মুসাফির ৩. যে ব্যক্তি নামায আদায় করবে। হযরত মুহাম্মদ (সা:) এ প্রসঙ্গে বলেন, তোমরা রাতে জাগ্রত থাকবেনা কারণ এটা তোমাদের জন্য ক্ষতিকর এবং ক্লান্তিকর।
অর্থাৎ আমাদের যদি রাতে জাগ্রত থাকতেই হয় তাহলে সেটা হবে আল্লাহর জন্য সালাত আদায় করার উদ্দেশ্যে। সাহারায়ে কেরাম এবং পরবর্তী সালফে সালেহীনদের কারো রাত জেগে ওয়াজ করা এবং শোনার কোন প্রমান পাওয়া যায় না।
আর বর্তমানে ওয়াজ নসিহতের নামে কিছু মাহফিলে আমরা যা দেখছি সেখানে একরকম গান বাদ্য ছাড়া তেমন কিছুই হয়না এবং গীবত,পরনিন্দার মাধ্যমে বিভিন্নজন বিভিন্নজনের নামে কুৎসা রটনা করে থাকে।
সুতরাং তথাকথিত কিছু ওয়াজ নসিহতের মাধ্যমে তারা ইসলামকে এমনভাবে উপস্থাপন করছে যেটা কোন দায়ীর কাজ হতে পারেনা। এছাড়া এভাবে মানুষকে কষ্ট দেওয়া কোন অবস্থাতেই ঠিক নয়।