জুমা’আর আজান কেন দুইবার দেওয়া হয় ! আজান শব্দের অর্থ হচ্ছে ডাকা, আহবান করা। ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় জামাআতের সহিত নামাজ আদায় করার লক্ষ্যে মানুষকে মসজিদে একত্রিত করার জন্য আরবি নির্দিষ্ট শব্দ ও বাক্যের মাধ্যমে উচ্চকণ্ঠে ডাক দেয়া বা ঘোষণা করাকেই আজান বলা হয়।
এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ তা’আলা বলেন, হে! আমার মুমিন বান্দারা শোনো যখন জুমা’আর নামাযের জন্য আজান দেওয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হও, সকল প্রকার কেনাবেচা বন্ধ করে দাও।
৫ ওয়াক্ত নামাযের সময় আজান একবার দেওয়া হলেও জুমা’আর আজান দুইবার দেওয়া হয়। জুমা’আর সময় এ দুইবার আজান দেওয়ার প্রচলন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর সময়েও ছিল না। এ প্রচলন শুরু হয়েছিল হযরত উসমান (রাঃ) এর সময় থেকে। তখন মদীনাতে মুসলমানদের সংখ্যা বেড়ে গিয়েছিল, নামাযের সময় মুসল্লীদের জায়গা হতো না।
তখন হযরত উসমান (রা) ঘোষণা দিলেন , ‘যাওরা’ নামক বিশাল একটি বাজার আছে, এখন থেকে ঐখানে জুমা’আর নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। মানুষ যাতে করে আগে থেকেই নামাজের প্রস্তুতি নিতে পারে, সেজন্য তিনি ঐখানে আরেকটা আজানের প্রচলন শুরু করলেন । তখন থেকেই এখন পর্যন্ত জুমা’আর নামাজে আজান দুইবার দেওয়া হয়।
এটা নবীর সুন্নত না, সাহাবীর সুন্নত। মহানবীর সুন্নত মেনে নেওয়া যেমন আবশ্যক, ঠিক তেমনি চার খলিফার সুন্নত মেনে নেওয়াও আবশ্যক। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা) এ প্রসঙ্গে বলেন, আমার সুন্নত ও সাহাবীর সুন্নত দুইটিকেই এমনভাবে আঁকড়ে ধরবে যাতে করে কোনোটিই ছুটে না যায়।