শবে মেরাজ নিয়ে আমাদের সমাজে নানা কুসংস্কার বা ভুল ধারণা রয়েছে। তন্মধ্যে প্রধান কুসংস্কারের বিষয়টি হলো অনেকে মুসলমানগণই মনে করে রজব মাসটি হলো মেরাজের মাস এবং এ মাসের ২৭ তারিখে নবী কারীম (সা) এর মেরাজ হয়েছে।
শুধু তাই নয় আমাদের সমাজে রজব মাসের চাঁদ উঠলে পত্র-পত্রিকায়, মিডিয়ায় সংবাদের শিরোনাম হয় রজব মাসের চাঁদ দেখা গেছে আগামী ২৭ তারিখ শবে মেরাজ। অর্থাৎ রজব মাস মানেই হলো মেরাজের মাস। এ মাসের মুল প্রতিপাদ্য বিষয়ই হলো শবে মেরাজ। যার কারণে এ মাসে অনেক ফযীলত ও গুরুত্ব আছে বলে মনে করা হয় থাকে।
আরও পড়ুন: রক্তদান সম্পর্কে ইসলাম কি বলে?
নবী কারীম (সা) এর মেরাজ হয়েছে এটা সম্পূর্ণ সঠিক কিন্তু রজব মাসের ২৭ তারিখে হয়েছে এমন কোনো সুস্পষ্ট দলিল পাওয়া যায় নি। নবী কারীম (সা) এর মেরাজ কোন মাসে হয়েছে, কোন তারিখে হয়েছে, কোন দিনে হয়েছে এ প্রসঙ্গে ঈমাম ইবনে তাইবে রহ. বলেছেন, শবে মেরাজের বিষয়ে বিশুদ্ধ কোনো বর্ণনা দ্বারা কোনো দিনের, কোনো মাসের কথা নিশ্চিতভাবে জানা যায় নি।
অর্থাৎ শবে মেরাজ মনে করে রজব মাসের ২৭ তারিখে কোনো আমল করলে এটা বিদায়াতের মধ্যে পড়বে। এর সাথে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা সওয়াবের উদ্দেশ্যে সেই আমলটাই করবো যা কুরআন এবং হাদীসে বর্ণনা আছে। এর বাইরে যদি কোনো আমল করি তা বিদায়াত বলে গণ্য হবে।
আরও পড়ুন: আত্মহত্যা করা কেনো মহাপাপ –
রজব মাসকে কেন্দ্র করে কোনো আমল করলে তা পরিত্যাজ্য হবে। নবী কারীম (সা) এর মেরাজ হয়েছে মক্কায় অর্থাৎ মক্কার শুরুর দিকে। তিনি এ মেরাজের ঘটনার পরে দীর্ঘদিন মক্কায় ছিলেন আবার মদীনাতেও ছিলেন, তাঁর মৃত্যুর পর সাহাবীগণও ছিলেন।
এ দীর্ঘ ইতিহাসে কখনো সাহাবে কেরামের কেউ অথবা মহানবী (সা) নিজেও কখনো এ মেরাজ উপলক্ষ্যে কোনো প্রকার আমল, রাত্রিযাপন, দিনে রোযা অথবা কোনোভাবে উদযাপন, এ ধরণের কোনো কর্মসূচী দিয়েছেন এমন কোনো হাদীস পাওয়া যায়নি। অতএব রজব মাসকে কেন্দ্র করে এই আমলগুলো আমরা যারা করে থাকি তা সম্পূর্ণ পরিত্যাগ করতে হবে। এর সাথে শরীয়তের কোনো সম্পর্ক নেই।