1. mdemon1971@yahoo.com : news : Emon
  2. sowkat.press@gmail.com : Global :
  3. kamrulhk1984@gmail.com : gobalprime :
  4. jahidhasan87989@gmail.com : Jahid Hasan : Jahid Hasan
  5. soykotmh8@gmail.com : Prime time press : Prime time press
  6. rashedulraju760@gmail.com : prime time : prime time
  7. skprime88@yahoo.com : primetim2 :
  8. rashidul.rahul@gmail.com : অ্যাডমিন :
  9. siplujt@gmail.com : এডমিন :
মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:২২ পূর্বাহ্ন

যে নারী সাহাবি মক্কা ও মদিনার বিখ্যাত আতর বিক্রেতা ছিলেন

ধর্ম ডেস্ক
  • Update Time : বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৩
  • ১৪২ Time View

আসমা বিনতে মুখাররাবা (রা.) ছিলেন তামিম গোত্রের একজন নারী সাহাবি। তিনি মক্কা বিজয়ের পর ইসলাম গ্রহণ করেন এবং ওমর (রা.)-এর যুগে ইন্তেকাল করেন। তিনি ছিলেন সাহাবি আয়াশ ইবনে আবি রাবিআ (রা.)-এর মা। আসমা বিনতে মুখাররাবা (রা.) ছিলেন একজন বিখ্যাত আতর ব্যবসায়ী।

তিনি ইয়েমেন থেকে আতর এনে মক্কায় বিক্রি করতেন।
ঐতিহাসিক ইবনে সাআদ লেখেন, আসমা বিনতে মুখাররাবা তামিমিয়া (রা.)-কে প্রথম হিশাম ইবনে মুগিরা বিয়ে করেন। তাঁর ঔরশে আবু জাহাল ও হারেস জন্মগ্রহণ করে। হিশাম মারা গেলে তাঁর ভাই আবু রাবিআ বিন মুগিরা তাঁকে বিয়ে করেন এবং তাঁর ঔরশে আয়াশ (রা.), আবদুল্লাহ (রা.) ও উম্মে হুজাইর জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি মুসলিম হন, আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর হাতে আনুগত্যের বাইআত গ্রহণ করেন এবং মদিনায় হিজরত করেন।
হিজরতের পরও আসমা বিনতে মুখাররাবা (রা.) মদিনায় আতর ব্যবসা অব্যাহত রাখেন। রুবাইয়ি বিনতে মুয়াওবিজ বিন আফরা (রা.) বলেন, ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর যুগে আমি একজন আনসারি নারীর (মদিনায় অবস্থানকারী অর্থে) কাছে গেলাম। তিনি ছিলেন আবু জাহালের মা আসমা বিনতে মুখাররাবা (রা.)।

তাঁর ছেলে আবদুল্লাহ বিন আবি রাবিআ (রা.) ইয়েমেন থেকে তাঁর কাছে আতর পাঠাতেন এবং তিনি তা ধনী ব্যক্তিদের কাছে বিক্রি করতেন। আমরাও তাঁর কাছ থেকে কিনতাম। তিনি আমার জন্য নির্ধারিত কাচের বোতলে আতর ভরলেন এবং পরিমাপ করলেন।
এরপর বললেন, তোমার কাছে আমার পাওনা লিখে রাখো। আমি বললাম, লিখুন রুবাইয়ি বিনতে মুয়াওবিজ (রা.)-এর কাছে পাওনা রইল।

আসমা (রা.) তখন বললেন, দাঁড়াও! তুমি কি গোত্রের নেতাকে হত্যাকারীর মেয়ে? আমি বললাম, না, বরং গোত্রের দাসকে হত্যাকারীর মেয়ে। আসমা (রা.) বললেন, আল্লাহর কসম! আমি তোমার কাছে কোনো কিছু বিক্রি করব না এবং আমি বললাম, আমিও আপনার কাছ থেকে কিছু কিনব না।
ঐতিহাসিকরা লেখেন, আসমা বিনতে মুখাররাবা (রা.)-এর এই প্রতিক্রিয়া ছিল মা হিসেবে তাঁর মানবিক দুর্বলতার প্রকাশ। কেননা মুয়াওবিজ (রা.) ছিলেন তাঁর সন্তান আবু জাহালের হত্যাকারী। এই ব্যথা অনুচিত হলেও আশা করা যায়, মা হিসেবে তাঁর এই দুর্বলতাকে দয়ালু আল্লাহ ক্ষমা করবেন।

অন্যদিকে রুবাইয়ি বিনতে মুওয়াবিজ (রা.)-এর প্রতিজ্ঞা ছিল ঈমানি চেতনার বহিঃপ্রকাশ, যা তাঁর নিম্নোক্ত কবিতা থেকে প্রকাশ পায়­ ‘আজ আংশিক বা পরিপূর্ণভাবে প্রকাশ পাচ্ছে মানুষের মনোভাব, আর যা প্রকাশ পাচ্ছে তা আমি বৈধ মনে করি না/কত জ্ঞানী ও বুদ্ধিমান ব্যক্তি পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং কত চক্ষুষ্মানকে আমরা অন্ধ বলি।’

আসমা বিনতে মুখাররাবা (রা.) উন্নতমানের আতর বিক্রি করতেন এবং ধনীরাই ছিলেন তাঁর মূল ক্রেতা। রুবাইয়ি বিনতে মুয়াওবিজ (রা.) যেমনটি বলেন, হে বৎস, আল্লাহর কসম! আমি এর থেকে উত্তম আতরের ঘ্রাণ কখনো গ্রহণ করিনি। কিন্তু আমি ক্ষুব্ধ ছিলাম (তাই ক্রয় করিনি)।

ইসলাম গ্রহণের পর আসমা বিনতে মুখাররাবা (রা.) নবীজি (সা.)-এর সান্নিধ্য ও দোয়াকে নিজের জন্য সৌভাগ্য মনে করতেন। আবদুল্লাহ বিন আয়াশ (রা.) থেকে বর্ণিত, আবি রাবিআ গোত্রের কয়েকটি ঘরে নবীজি (সা.) গমন করেন। তিনি রোগীর খোঁজখবর নিতে এসেছিলেন। তখন আসমা তামিমিয়া (রা.) বলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমাকে উপদেশ দিন।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তুমি তোমার ভাইয়ের সঙ্গে তেমনটিই আচরণ করবে, তোমার প্রতি তাঁর যেমন আচরণ তুমি পছন্দ করো। তুমি তোমার ভাইয়ের সঙ্গে তেমন আন্তরিক হও, যেমন আন্তরিকতা তাঁর কাছ থেকে আশা করো।’ এরপর তিনি অসুস্থ নাতিকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সামনে পেশ করে দোয়া চান। নবীজি (সা.) শিশুকে ঝাড়-ফুঁক করেন এবং সামান্য থুথু মোবারক শিশুটির গায়ে ছিটিয়ে দেন। শিশুটি সঙ্গে সঙ্গে সুস্থ হয়ে যায় এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে খেলায় মেতে ওঠে।

তথ্যসূত্র : আল ইসাবা : ৮/১৮, মাজমাউল মাসানিদ : ১৫/২৩৭৮

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
globalprime24.com 2024 © All rights reserved