নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে চলাচলের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় এক নারীসহ চারজন আহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় গুরুতর আহত শাহাবুদ্দিনের মাথায় ১১টি সেলাই দিতে হয়েছে। এ ঘটনায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীরা। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়ে পুলিশ বলেছে, আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের নাসিক ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব কলাবাগ এলাকায় চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের অতর্কিত হামলায় নারীসহ চারজন আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন শাহাবুদ্দিন (৬৫), তার স্ত্রী শামীমা বেগম (৫৪), ছোট ভাই নূরুল আমিন (৫২) এবং ভাতিজা মাহমুদুল হাসান জিসান (১৮)। গুরুতর আহত শাহাবুদ্দিন বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অভিযুক্তরা বাড়ি নির্মাণের সময় চলাচলের রাস্তা না রেখে ভবন নির্মাণ করলেও দীর্ঘদিন ধরে তাদের বাড়ির রাস্তা ব্যবহার করে আসছিল। এ নিয়ে আদালতে মামলাও বিচারাধীন রয়েছে। সম্প্রতি রাস্তার পাশে থাকা টিনের বেড়ার পুরোনো খুঁটি সংস্কার করতে গেলে বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে শাহাবুদ্দিনের বাড়িতে হামলা চালায়।
অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা শাহাবুদ্দিনকে এলোপাতাড়ি মারধর করে কাঠের গুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করলে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাকে রক্ষা করতে গেলে স্ত্রী শামীমা বেগম ও ভাই নূরুল আমিনকেও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে শামীমাকে টেনেহিঁচড়ে শ্লীলতাহানির অভিযোগও ওঠে। এ সময় ভাতিজা মাহমুদুল হাসান জিসান বাধা দিলে তাকে মারধরের পাশাপাশি গলা চেপে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ করা হয়েছে। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায় এবং আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় আঃ রশিদ, রাসেল, জুয়েল, মহিউদ্দিন, সাকিব, রোহন, ফেরদৌস, রাশিদা বেগম, তামান্না বেগম, বেবি বেগম ও টিনি বেগমসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
আহত শাহাবুদ্দিন বলেন, “কোনো উসকানি ছাড়াই আমার ওপর পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। আমি এই নৃশংস ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
শামীমা বেগম বলেন, “স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে আমিও হামলার শিকার হয়েছি। আমাকে টেনেহিঁচড়ে মারধর করা হয়েছে। আমি এই ঘটনার ন্যায়বিচার চাই।”
শাহাবুদ্দিনের ভাই নূরুল আমিন বলেন, “পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। আমরা থানায় অভিযোগ করেছি। দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাই।”
এ বিষয়ে অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এএসআই শরিফ বলেন, “অভিযোগ তদন্তে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।”