শরীয়তের দৃষ্টিতে নারীদের কণ্ঠে কুরআন তিলাওয়াত ও ইসলামী সংগীতসহ অন্যান্য আলোচনা শ্রবণ করা জায়েজ আছে কি এমন প্রশ্ন অনেকে করে থাকেন। কোরআন, হাদীস ও ইসলামী চিন্তাবিদদের বক্তব্যের আলোকে এর উত্তরে নিম্নরুপ:-
পুরুষের জন্য গাইরে মাহরাম নারীর কণ্ঠে ইসলামী সংগীত শোনা বৈধ নয়। পুরুষের জন্য গাইরে মাহরাম নারীর কথা প্রয়োজনে শ্রবণ করা বৈধ হলেও এক্ষেত্রে শরীয়তের নির্দেশনা হল, নারীরা কোমলতা পরিহার করে কথা বলবে।
নরম সুরে, আকর্ষণীয় ভঙ্গিতে কথা বলা থেকে পবিত্র কুরআনে সুস্পষ্টভাবে নিষেধ করা হয়েছে। (পড়ুন, সূরা আহযাব, আয়াত ৩২)
বর্তমানে যে কোনো সংগীতই আকর্ষণীয় ভঙ্গিতে উপস্থাপন করা হয়ে থাকে। এগুলো শ্রবণ করা প্রয়োজনীয় কোনো বিষয়ও নয়। তাই গাইরে মাহরাম নারীদের কণ্ঠে এধরনের সংগীত শোনা থেকে বিরত থাকতে হবে। তবে ফেতনার আশঙ্কা না হলে ছোট ছোট মেয়ে শিশুদের কণ্ঠে শোনা নাজায়েজ নয়।
আর ফেতনার আশঙ্কা হলে প্রাপ্তবয়স্ক বা প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার কাছাকাছি এমন গাইরে মাহরাম মেয়ের কণ্ঠে কুরআন শোনাও বৈধ হবে না। তবে মাহরামরা তা শ্রবণ করতে পারবে।
ফকিহগণ পরপুরুষের কানে কুরআন তিলাওয়াতের আওয়াজ পৌঁছতে পারে এজন্য নামাজের মধ্যেও আস্তে আস্তে তিলাওয়াত করার নির্দেশনা দিয়েছেন। এমনকি কোনো কোনো ফকিহ উচ্চস্বরে তিলাওয়াত করলে নামাজ ফাসেদ (নষ্ট) হওয়ার কথাও বলেছেন।
প্রসঙ্গত: নারীদের জন্য আজান দেওয়া, উচ্চস্বরে তালবিয়া পড়া এজন্যই নিষেধ করা হয়েছে, যাতে পরপুরুষের কানে তাদের আওয়াজ না পৌঁছে।
কুরআন তিলাওয়াতের ক্ষেত্রেও ফেতনার আশঙ্কা হলে পরপুরুষের কানে এর আওয়াজ পৌঁছে- এভাবে পড়া থেকে বিরত থাকা কর্তব্য।
উল্লেখ্য, প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে বা নারীদের কণ্ঠে ধারণকৃত অডিও, ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার যে রেওয়াজ এখন চালু হয়েছে তা কোনোক্রমেই বৈধ নয়।
(সূত্র: সূরা আহযাব (৩৩) : ৩২; আলজামে লিআহকামিল কুরআন, কুরতুবী ১৪/১১৬; আহকামুল কুরআন, জাস্সাস ৩/৩১৯; ফাতহুল কাদীর ১/২২৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৪/১১০; রদ্দুল মুহতার ১/৪০৬; মিরকাতুল মাফাতীহ ৯/৫১; ইমদাদুল আহকাম ৪/৩৭৫)