আত্মহত্যা করা মহাপাপ। যারা আত্মহত্যা করে তাদের স্থান হয় জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে। একজন মুসলমান যখন কোনো সমস্যায় পড়লে সে সমস্যার কোনো সমাধান খুঁজে পায় না , তার আল্লাহর করুনা পাওয়ার আর কোনো উপায় নাই, এরকম নৈরাশ্য যখন ঘিরে ফেলে তখনই মানুষ আত্মহত্যার মতো এমন মহাপাপ করে থাকে।
নানারকম বিপদ-আপদে আচ্ছন্ন অনেক মুসলমান ভাইয়েরা মনে করেন আত্মহত্যা করলে তারা সারাজীবনের জন্য বেঁচে যাবেন,আসলে তারা বাঁচবেন না বরং মরবেন। আত্মহত্যা করার মাধ্যমে একজন মুসলমান আল্লাহর রহমতকে অস্বীকার করলো। যা কুফরের শামিল।
আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কুরআনে বলেছেন, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে কখনও নিরাশ হবে না। দেয়ালে যদি শেষ পর্যন্ত পিঠ ঠেকেও যায় তাও কোনো অবস্থাতেই আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া যাবে না। আল্লাহ তা’আলা তাঁর প্রিয় নবীদের এতো পরীক্ষা নিয়েছিলেন যে তাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গিয়েছিলও তাও তাঁরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়নি। তবুও তাঁরা মহান আল্লাহর উপর নির্ভরশীল ছিল।
আরও পড়ুন: জানাযার নামাজের সময় জুতা খুলে ফেলতে হয় কিনা –
তাঁদের সমস্যার সাথে আমাদের সমস্যা তুলনা করলে তা খুবই নগন্য। আত্মহত্যা তো দূরের বিষয় কোনো অবস্থাতেই নিজের শরীরকে কোনো কষ্ট দেওয়া যাবে না যা সম্পূর্ণ হারামের মধ্যে পড়ে। এ প্রসঙ্গে মহানবী (সা) বলেছেন, কোনো এক যুগে কোনো একজন মানুষের হাতে ক্ষত হয়েছিল, এই ক্ষতের কষ্ট তিনি সহ্য করতে না পেরে ধারালো ছুরি দিয়ে নিজের হাত কেটে ফেলেন।
ফলশ্রুতিতে প্রচুর রক্তপাত হয়ে তার মৃত্যু হয়। তখন আল্লাহ তা’আলা এই ব্যক্তির প্রসঙ্গে বলেন, আমার বান্দা তার জান আমি কবজ করবো , সে নিজে থেকে তার জান কবজ করেছে সেজন্য আমি তার জন্য জান্নাত হারাম করেছি। কারণ এই জানের মালিক একমাত্র আল্লাহ।
বিপদ থেকে চিরমুক্তির জন্য আত্মহত্যা করার মাধ্যমে একজন মুসলমান ইহকালের পাশাপাশি পরকালেও নিজের ধ্বংসকে তুরান্বিত করে। হাদীসে আছে, কোনো ব্যক্তি যেভাবে আত্মহত্যা করবে তার আজাবও সেভাবেই হবে। এর মানে হলো কেউ যদি উঁচু জায়গা হতে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করে মৃত্যুর পর জাহান্নামেও তাকে এইভাবেই সারাজীবন উঁচু জায়গা হতে বারবার ফেলে দিয়ে কষ্ট দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: বৈবাহিক সম্পর্ক ও বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের মধ্যে পার্থক্য –
আবার কেউ যদি বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করে মৃত্যুর পর জাহান্নামেও তাকে আজীবন এইভাবে বিষ খাওয়ানো হবে। এই হাদীসগুলো পড়লেই বুঝা যায়, আত্মহত্যা করা কতো জগন্য অপরাধ। যে ব্যক্তি আত্মহত্যা করবে সে ব্যক্তির জানাযার প্রসঙ্গে হাদীসে আছে, কোনো এলাকায় কোনো ব্যক্তি আত্মহত্যা করলে সমাজের গন্যমান্য ব্যক্তিরা তার জানাযা পড়বে না, তবে সাধারণ মানুষরা তার জানাযা পড়তে পারবে।
কারণ সাধারণ মানুষ যাতে বুঝতে পারে সে যদি নিজেও আত্মহত্যা করে তাহলে তার জানাযায়ও কোনো গন্যমান্য ব্যক্তি অংশগ্রহণ করবে না। একারণেই মানুষ হয়তো আত্মহত্যার মত জগন্য পাপ থেকে বেঁচে থাকবে। কোনো মুসলমানেরই কোনো অবস্থাতেই আত্মহত্যা করার কথা চিন্তা করা যাবে না।
তবে একথা মনে রাখতে হবে আত্মহত্যা করলে কোনো মুসলিম অমুসলিম হয়ে যায় না। যে ব্যক্তি আত্মহত্যা করে তার জন্য বেশী করে দোয়া করতে হবে যাতে করে মহান আল্লাহ তা’আলা তাকে মাফ করে দেন। মহান আল্লাহ তা’আলা চাইলে যেকোনো বড় অপরাধই মাফ করে দিতে পারেন। ইসলামে আত্মহত্যা করা তো দূরের কথা নিজের মৃত্যু কামনা করাও অনেক বড় গুনাহ।
অর্থাৎ আমাদের জীবনে যতই কষ্ট আসুক না কেনো ধৈর্যধারণ করাটাই হবে প্রকৃত ঈমানদারের পরিচয়। বরং আল্লাহর কাছে এমনভাবে দোয়া প্রার্থনা করতে হবে, “আল্লাহ আপনি আমাকে ততদিনই বাঁচিয়ে রাখবেন যতদিন আমার বেঁচে থাকা কল্যাণকর হবে, আবার তখনই মৃত্যু দিবেন যখন আমার মৃত্যু কল্যাণকর হবে।”
আরও পড়ুন: বিয়ের পরে শশুরবাড়ি থেকে উপহার নেয়া যাবে কিনা
আল্লাহ তা’আলা আমাদের ঈমান পরীক্ষার করার জন্যই বিভিন্ন কঠিন পরীক্ষা দিয়ে থাকেন। শয়তানের বড় ষড়যন্ত্রই হচ্ছে মানুষকে নিরাশ করে দেওয়া বিধায় আমাদের কোনোভাবেই নিরাশ হওয়া যাবে না। সর্বদা আল্লাহর কাছে রহমত প্রার্থনা করতে হবে। কষ্টে, বিপদ-আপদে সর্বদা আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা চাইতে হবে।