মোসারাত জাহান মুনিয়ার লাশ উদ্ধারের পর থেকে গত দু’দিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন ফেসবুক লাইভ ও মূলধারার গণমাধ্যমে তার বড় বোন নুসরাত জাহান বেশ সরব রয়েছেন। তিনি এটাও বলছেন- গত দু’বছরে তেমন একটা যোগাযোগ ছিলো না মুনিয়ার সঙ্গে। কিন্তু নতুন খবর হলো- গুলশানে মুনিয়া যে ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতো তা নেওয়া হয়েছিল বড় বোন নুসরাত জাহানের নামেই। এছাড়া এই মামলা ইস্যুতে উঠে আসা নেপথ্য নায়ক হুইপ-পুত্র শারুন চৌধুরীর সঙ্গেও যোগাযোগ ছিলো মুনিয়ার বোনের।
দেখা গেছে, গুলশানের ফ্ল্যাট থেকে মুনিয়ার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার ঘটনার আগে থেকেই শারুন চৌধুরী তার সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেন বিভিন্ন স্থানে। অভিযোগ উঠেছে, ওইসব বৈঠক এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন কথোপকথনে মুনিয়াকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেন শারুন চৌধুরী। এই ঘটনায় এরই মধ্যে গুলশান থানা পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে এই হুইপ-পুত্রকে। তবে তাকে নিয়ে মুখ খুলছেন না মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত জাহান।
এখন শারুন চৌধুরী ও মুনিয়ার বোনের কি সম্পর্ক তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। মুনিয়ার বড় বোনকে শারুন চৌধুরী যে আগে থেকেই চিনতো তা মুনিয়ার সঙ্গে তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কথোপকথনে উঠে এসেছে। কথোপকথনের মাঝে মুনিয়া ইনবক্সে শারুন চৌধুরীকে লিখেন, গত বছরে আমি খুবি কষ্টে ছিলাম, আপনি তো আমার পাশে না দাঁড়ালে কি করতাম জানি না। জবাবে শারুন চৌধুরী লিখেন, আরে ওইটা কোন ব্যাপার না, তুমি আমার সঙ্গে আছো এটাই আমার বড় পাওয়া, আর ৫ লাখ কোনো টাকা না আমার জন্য। আমি তো তোমাকে লাইক করি, তুমি তো জানো। শারুন চৌধুরীর লেখার জবাবে মুনিয়া লিখেন- এইটা আমি কোনো দিন ভুলবো না, আমার বোন বলছে, আপনি একটা ফেরেস্তা, আপনার জীবনে আপনার ওয়াইফের আগে যদি আমি আসতাম! উত্তরে শারুন চৌধুরী লিখেন, আমি ভালো মানুষ না, জাস্ট মানুষের উপকার করি।
কথোপকথন আরও দেখা গেছে, বসুন্ধরা এমডিকে বিপাকে ফেলতে মুনিয়ার সঙ্গে নানা ধরনের কথা বলতো শারুন চৌধুরী। তিনি নানাভাবে প্ররোচনা দিতেন মুনিয়াকে। শারুন এও বলেছেন- মুনিয়া তুমি উল্টাপাল্টা কিছু একটা করে ফেললেই বসুন্ধরার এমডিকে তছনছ করে দেয়া যাবে। এই রকম আরও উস্কানি দেয়া হতো বলেও অভিযোগ উঠেছে। কারণ মুনিয়া আত্মহত্যার ঘটনার কিছুদিন আগেই মুনিয়া ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে শারুন চৌধুরী কথোপকথনের এক পর্যায়ে ইনবক্সে লিখেন, আপনি প্লিজ আমাকে দেখবেন। আমি মারা গেলে আমার ফ্যামেলিকে দেইখেন। মুনিয়ার কথার জবাবে শারুন চৌধুরী ইনবক্সে মুনিয়াকে লিখেন, আরে তুমি কিছু করলে বসুন্ধরা গ্রুপ শেষ হয়ে যাবে, কোন দরকার হলে আমাকে টেলিগ্রামে নক দিও। আর আমার নামে নিউজ করে ওরা আমার কি—ছিড়বে? সরকারের উপর মহল আমার বিষয়ে জানে। সো ওদের গনায় ধরার সময় নাই। শারুনের কথার জবাবে মুনিয়ার উত্তর- আমি মারা গেলে আমার ফ্যামেলিকে দেইখেন।
শারুনের সঙ্গে মুনিয়ার এই যোগাযোগের বিষয়টি প্রথম থেকেই তার বড় বোন নুসরাত জাহান জানতো। এমন কি শারুনের সঙ্গেও মুনিয়ার বোনের যোগাযোগ ছিলো। মুনিয়ার সঙ্গে কথোপকথনে পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে আলাপ ও শারুনকে বড় বোন নুসরাতের ফেরেস্তা বলা নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। যা মুনিয়ার বোনের ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তিনি সব জেনেও দু’বছর ধরে কিছু বলেননি, নিজের নামে গুলশানের ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়ে দিয়েছেন মুনিয়াকে- অথচ এখন উল্টো বলছেন তেমন একটা যোগাযোগ ছিলো না।
যতদূর জানা গেছে, তার পরিবার খুব একটা স্বচ্ছল ছিলো না। অনেকেই বলছেন- মুনিয়ার এই চাকচিক্য জীবনের সাথে সাথে তার বোনের জীবনেও ছোঁয়া লাগে চাকচিক্যের। কেউ কেউ তো এটাও বলছে, মুনিয়াকে ব্যবহার করেছে তার বোন। শেষে রুপকথার গল্পের মেতো হয়তোবা সব সোনার ডিম একবারে পেতে হাঁসকেই (মুনিয়া) শেষ করে দিয়েছে পরিবার।
প্রশ্ন উঠেছে সামান্য কলেজ পড়ুয়া মুনিয়ার বিলাসি জীবনযাপন, শুধু অভিজাত নয়- গুলশানের ডিপ্লোম্যাটিক জোনের মতো একটি ভিভিআইপি এলাকায় এক-দেড় লাখ টাকার ফ্ল্যাটে একা বসবাস ও পার্টি করে বেড়ানো নিয়ে। দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে এসব জেনেও কেন চুপ ছিলেন মুনিয়ার বোন- তাও ধাঁধায় ফেলে দিয়েছে। হয়তো সময় হলেই এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে।