‘করোনায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারছি বলে আমার পরিবার খুব খুশি।করোনা মহামারীতে বর্তমানে যে পরিস্থিতি, সেখান থেকে মানুষের জন্য কিছু করতে পারছি এটা সকলের জন্যই খুব আনন্দের বিষয়। কারণ সবাই এই সুযোগ পায় না’— কথাগুলো গ্লোবাল প্রাইমকে বলছিলেন নোয়াখালীর পুলিশ সুপার(এসপি) আলমগীর হোসেন।
করোনা সংক্রমণের শুরুর দিকে যারা কোভিড-১৯ পজেটিভ হয়ে শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভোগেন তাদের কথা চিন্তা করে কোভিড অক্সিজেন ব্যাংক চালু করার উদ্যোগ নেন নোয়াখালী জেলার পুলিশ পরিদর্শক এস এম কামরুল হাসান।সেই উদ্যোগকে কাজে লাগাতে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন আলমগীর হোসেন।
এ কাজে নোয়াখালী জেলা পুলিশকে কিছু হিতৈষী ব্যক্তি অক্সিজেন সিলিন্ডারের অর্থ দিয়ে সহায়তা করেছেন।আর রিফিল করার কাজটা সেটা জেলা পুলিশের তরফ থেকে করা হচ্ছে।
প্রথমে ১০ টি অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে তাদের কাজ শুরু হয়। এখন মোট ৫৫ টি অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে কাজ করছে নোয়াখালী জেলা পুলিশ।তাদের এ সেবা শুধুমাত্র নোয়াখালীতে সীমাবদ্ধ নয়।
অন্যান্য জেলার মানুষেরা চাইলে অক্সিজেন সিলিন্ডার পায় জানিয়ে এসপি আলমগীর বলেন, ‘কুমিল্লা,লক্ষীপুর ও ফেনী থেকেও আমাদের কাছ থেকেও অক্সিজেন সিলিন্ডার অনেকে চেয়েছেন।আমরা তাদেরকেও সহায়তা করেছি। আমাদের এ সেবা শুধুমাত্র নোয়খালীতে সীমাবদ্ধ নয়।’

গ্লোবাল প্রাইমের সঙ্গে কথা হয় অক্সিজেন সিলিন্ডার ব্যাংকের উদ্যোক্তা এস এম কামরুল হাসানের। তিনি জানান, চোখের সামনে করোনা আক্রান্ত হয়ে শ্বাসকষ্টজনিত রোগে মৃত্যুর যন্ত্রণা দেখা খুবই কষ্টকর।আর এ কারনেই বিনামূল্যে অক্সিজেন সরবরাহের উদ্যোগ নেই।
এ বিষয়ে সেবা গ্রহণকারীর একজন আত্নীয় রাসেল চৌধুরীর সাথে কথা হয়। তিনি এখন এ অক্সিজেন ব্যাংকের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করছেন।
রাসেল চৌধুরী জানান, আমার আত্মীয় করোনা আক্রান্ত হয়ে শ্বাসকষ্ট জনিত রোগে ভুগছিলেন। নোয়াখালী পুলিশ অক্সিজেন ব্যাংকের নাম্বারে রাত ২টায় ফোন দিলে তারা অক্সিজেন নেয়ার জন্য আসতে বলেন। ওই রাতেই সেখানে গেলে কোনো ধরনের অর্থ ছাড়াই একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার দেয়া হয়।

তিনি আরও যোগ করেন, অক্সিজেন ব্যবহারের ফলে আমার আত্মীয় ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে। সেই থেকে আমিও এ অক্সিজেন ব্যাংকের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করছি।
এ বিষয়ে সেবা গ্রহণকারী নজরুল ইসলাম জানান,করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর তিনি শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার সম্মুখীন হন।পরে অক্সিজেন সিলিন্ডারের জন্য নোয়খালী জেলা পুলিশের শরণাপন্ন হন।
তিনি বলেন,আমি অক্সিজেন সিলিন্ডার চাওয়ার চার ঘন্টার মধ্যে আমাকে সেটা বাসায় পৌঁছে দেয় জেলা পুলিশ।
পুলিশের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন,সংকটাপন্ন এ পরিস্থিতিতে জেলা পুলিশের এ কাজের ফলে অনেক মানুষ উপকৃত হচ্ছে।তাদের এ উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার।
মানবতার কান্ডারি জেলা পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন অক্সিজেন ব্যাংকটিকে সমৃদ্ধ করার বিষয়ে আরও বৃহৎ পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে বলেন, ‘অক্সিজেন ব্যাংকের মাধ্যমে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে মানুষকে অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহ করে যাচ্ছি। এ অক্সিজেন ব্যাংকটি বর্তমানে শুধু নোয়াখালী জেলা নয় বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় অনুকরণীয় হয়ে উঠছে’।