নরসিংদী জেলার সদর উপজেলাধীন মাধবদীতে পারিবারিক দ্বন্দের কারণে বড় ভাইকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের মা এবং ছোট ভাইকে আটক করেছে পুলিশ।
এ ঘটনার ৮দিন পর বাড়ির পাশের পুকুরের মাটিতে পুঁতে রাখা মরদেহ উদ্ধার করেছে মাধবদী থানা পুলিশ।নরসিংদীর মাধবদীর মহিষাশুরা ইউনিয়নের দাইরের পার গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সোহাগ উপজেলার মাধবদী থানার দাইরের পাড় গ্রামের সানাউল্লাহ মিয়ার ছেলে।
পুলিশ সুত্রে জানা যায়, গত ২ মার্চ তারিখ রাতে নিহত সোহাগ নেশা জাতীয় দ্রব্য পান করে বাড়িতে আসে। ওই সময় সোহাগ তার মায়ের সাথে রাগারাগি ও গালিগালাজ করে। এক পর্যায়ে সোহাগ উত্তেজিত হয়ে তার মাকে মারধর করতে থাকে। এতে তার বাবা বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে তাকেও মারধোর করে।
আরও পড়ুন- জুনিয়র-সিনিয়র দ্বন্দ্ব, সালাম না দেয়ায় যুবককে হত্যা
নেশাগ্রস্ত সোহাগ একপর্যায়ে ছোট ভাইয়ের স্ত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টাও করে। এসময় ছোট ভাই জহিরুল ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে সোহাগের মাথায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনা চাপা দিতে নিহতের লাশ বাড়ির পাশে একটি পুকুর পাড়ে মাটি চাপা দিয়ে লাশ গুম করে রাখে।
এদিকে স্থানীয় লোকজন সোহাগকে দেখতে না পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবার হটলাইন ৯৯৯ নাম্বরে ফোন করে বিষয়টি অবহিত করেন। পরে মাধবদী থানা পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেন। এরই মধ্যে মাধবদী থানা পুলিশ নিহতের ছোট ভাইদের দুই স্ত্রীকে আটক করে। পরে তাদের দেয়া তথ্য মতে মঙ্গলবার দুপুরে বাড়ির পাশের একটি পুকুরের পাড়ে মাটি খুড়ে নিহত সোহাগের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে মাধবদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সৈয়দুজ্জামান বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি পারিবারিক কলহের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। হত্যার পর লাশটিকে গুম করে রাখা হয়েছিল। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছ।
ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলে মৃত্যুর বিস্তারিত কারণ জানা যাবে বলেও জানান ওসি।