1. mdemon1971@yahoo.com : news : Emon
  2. sowkat.press@gmail.com : Global :
  3. kamrulhk1984@gmail.com : gobalprime :
  4. jahidhasan87989@gmail.com : Jahid Hasan : Jahid Hasan
  5. soykotmh8@gmail.com : Prime time press : Prime time press
  6. rashedulraju760@gmail.com : prime time : prime time
  7. skprime88@yahoo.com : primetim2 :
  8. rashidul.rahul@gmail.com : অ্যাডমিন :
  9. siplujt@gmail.com : এডমিন :
শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৬ পূর্বাহ্ন

ফার্সি ভাষার প্রভাব বাংলায়

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২০
  • ৭৯১ Time View

 

শাকের আহম্মেদ সোহান:

বাংলায় ফার্সি ভাষার প্রভাব অনেক কাল আগে থেকে রয়েছে। মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠার সাথে সাথে বাংলায় ফারসি ভাষার প্রচলন শুরু হয় ১২০৪ খ্রিষ্টাব্দ থেকে এবং ১৮৩৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলা সহ সমগ্র ভারতবর্ষে প্রশাসন, রাজকার্য এবং সাহিত্য সংস্কৃতির ভাষা ছিল। ১২০৩ সালে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজির নদীয়া বিজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলায় মুসলিম শাসনের যাত্রা শুরু হয়। এরপর থেকে যেখানে মুসলমানদের বসতি সেখানে মসজিদ ,মক্তব, মাদ্রাসা মত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে।মূলত ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইরান থেকে সূফী-দরবেশ সৈনিক দার্শনিক কবিদের পদচারণায় ফার্সির বিকাশ লাভ করে। আমাদের মনে রাখতে হবে ১২০৪ থেকে ১৮৩৭ সাল পর্যন্ত ফারসী ছিল বাংলায় রাষ্ট্রভাষা। এই সময় হাজার হাজার ফার্সি গ্রন্থ লেখা হয়েছে।বক্তিয়ার খলজির রংপুরের মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলায় ফার্সি চর্চার সূচনা করেছিল পরবর্তীকালে বাংলার শাসকগণের পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলায় ফার্সি ভাষার বিশেষ ভিত্তিস্থাপন লাভ করে। ভারতে মুসলিম শাসক হিসেবে যে ফার্সি ভাষার বিকাশে প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালন করে আলী মর্দান খলজির শাসনামলে। বাংলায় সর্বপ্রথম যে ফার্সি গ্রন্থ রচিত হয় তাহলো “বাহালুল হায়াত” মোগল শাহজাদা মোঃ সুজন শাসনামলে বাংলায় ফারসি সাহিত্যের নতুন অধ্যায় শুরু হয়। তার আমলে ইরান থেকে বাংলায় অনেক কবি সাহিত্যিক বাংলায় আগমন করেন। শাহাজাদা সুজা নিজে ফার্সি কবিতা লিখতেন। বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রতিভার অধিকারী কবি আলাওল তার সভাকবি ছিলেন। তাছাড়া তার পৃষ্ঠপোষকতায় তিনি নিজামি গানজাভির “সিকান্দারনামা”এবং “হপ্তপয়কর”এর বাংলা অনুবাদ করেন। মহাকবি আলাওল ফার্সি ভাষায় অনেক দক্ষ ছিলেন তিনি ফার্সি ভাষায় রচিত অনেক হামদ-নাত বাংলায় অনুবাদ করে এবং তিনি বাংলার সাথে ফার্সি ভাষার নানান রকম বৈচিত্রপূর্ণ শব্দ ব্যবহার করার মাধ্যমে তিনি বাংলার মানুষের কাছে ফারসির পরিচয় করিয়ে দেন।তাছাড়া বাংলায় ফারসি সাহিত্যের বিকাশ এর ইতিহাস মুর্শিদকুলি খানের নাম বিশেষ করে উচ্চারিত হয় ।তার বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থের নাম “সারশার”।

‌পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম শাসনের অবসান ঘটে এবং কোম্পানির শাসন বাংলার প্রচলন হয়। বাংলা দাপ্তরিক এবং প্রশাসনিক ভাষায় ফার্সির প্রতি কোম্পানির নেতৃবর্গের বিদ্বেষের কারণেই কোম্পানির শাসনের সূচনা থেকেই ফার্সি ভাষার শাসকগোষ্ঠীর কোপানলে পড়ে। ফলে রাষ্ট্রীয়ভাবে ফার্সি বিকাশের সুযোগ-সুবিধা হতে বঞ্চিত হয়।এর কিছুক্ষণ পরে ফার্সি ভাষার বেশ মূল্যবান ইতিহাস গ্রন্থ রচিত হয় ১৭৬৪ সালে মুন্সি সলিমুল্লা রচিত “তারিখে বাংলা”১৭৭২ সালে “মোজাফফরনামা” ১৭৮৭ সালে গোলাম হোসেন রচিত “রিয়াজ-উস-সালাতিন” ১৭৮০ সালে গোলাম হোসেন খান রচিত “সিয়ার উল মুতাখখিরিন”ইত্যাদি অতিপ্রয়োজনীয় এবং ইতিহাসের দলিল হিসেবে পরিচিত গ্রন্থ রচিত হয়।তাছাড়া পলাশীর যুদ্ধের মাত্র ৬ বছর পর রচিত বাংলার নবাবদের নির্ভরযোগ্য ইতিহাস গ্রন্থ মুন্সি সলিমুল্লাহ কর্তিক ফার্সি ভাষায় রচিত “তারিখে বাংলা”

‌ এস এম ইমামুদ্দিন ভূমিকায় বলেন: Salim ullah wrote from his own memory are dependent on traditional account but hardly maintaining chronology.

‌ ১৮ শতকে বাংলায় ফার্সি চর্চার বিকাশে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পাওয়া যায়।আবার বাংলায় আঠারো শতকে বাংলায় ফার্সি অভিধান প্রথম রচিত হয় তাছাড়া ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির লেখক তার সহপাঠীর সাথে A grammar of the Persian language রচনা করে যিনি উইলিয়াম জোন্স হিসেবে পরিচিত।১৭৮০ সালে হেস্টিংস এর নিজস্ব অর্থ ব্যয় কলকাতা মাদ্রাসা তৈরি করেন এবং সেখানে ফার্সি শিক্ষা পরিচালিত হতো। তার মাধ্যমে বাংলায় ফারসি ভাষা এবং সাহিত্য আরো বিকাশ লাভ করে। ১৮৩০ সালে ইংরেজি কে বাধ্যতামূলক ঘোষণা করে এইভাবে বাংলায় ফারসি ভাষা ও সাহিত্যের কার্যক্রম থেকে বিতাড়িত করে। মোটকথা ২৫ বছরের অধিক সময় ফার্সি ভাষার কোন প্রকার পৃষ্ঠপোষকতা করিনি।শুধু কোম্পানির প্রয়োজনীয় সংখ্যক ফার্সি জানা লোকবল তৈরি করা ছিল তাদের উদ্দেশ্য। মূলত প্রশাসনকে সচল করার জন্য এবং স্থানীয় মানুষের সাথে যোগাযোগ করার জন্য তারা ফারসি ব্যবহার করত ।১৮৪৩ সালে কোম্পানি ফার্সি ভাষায় ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ভাষা হিসেবে ঘোষণা করে। এবং তার আগে ১৮৩৭ সালের ২০ নভেম্বর এর ফরমান এর মাধ্যমে ভারতবর্ষে ১ ডিসেম্বর থেকে অফিস-আদালতে ফার্সি ভাষা কে দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে বাতিল করে এবং ইংরেজি ভাষাকে প্রতিস্থাপন করে। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পূর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি উর্দু বিভাগে জনাব ফয়েজ ছিলেন বাংলা ভাষাভাষী পার্শ্বশিক্ষক। পরবর্তীতে ১৯৭১ যুদ্ধের পর এই বিভাগের ছাত্র ভর্তি বন্ধ ছিল। নানান প্রতিকূলতার পরও ১৯৮৬ সালে পুনরায় ছাত্র ভর্তি শুরু হয় বিএ সম্মান, এম এ, এমফিল, পিএইচডি ডিগ্রী প্রদান করা হয়। ঢাকা শহর রাজশাহী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য পড়াশোনা হয়। মূলত বাংলার সমাজ ব্যবস্থায় ফার্সি এমন ভাবে জড়িত মানুষ তাদের দৈনিক কথাবার্তায় ফার্সি শব্দ ব্যবহার করে।বাংলা ভাষার সাথে ফার্সি একাকার হয়ে আছে যা বাংলা ভাষাকে আরো বৈচিত্র্যময় করে তুলেছে। পরিশেষে একটি কথাই বলতে হয় মানুষের শরীরের সাথে তার বস্তের সম্পর্ক বাংলা ভাষা-ভাষী মানুষের সাথে শারীরিক সম্পর্ক যা অতীতে বর্তমান কাল পর্যন্ত চলে এসেছে ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি পাবে।


লেখক:
‌ শাকের আহম্মেদ সোহান
‌ শিক্ষার্থী (শিক্ষাবর্ষ:২০১৬-১৭)
‌ পার্শিয়ান ল্যাঙ্গুয়েজ লিটারেচার
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
globalprime24.com 2024 © All rights reserved