চিকিৎসা শাস্ত্রের ভাষায় এই রোগগুলোকে বলা হয় ‘পেরিওডন্টাল ডিজিজ’।
এবিষয়ক গবেষণার প্রধান, ডেনমার্কের আরহাস ইউনিভার্সিটি’র বেনতে নিভাদ বলেন, “‘পেরিওডন্টাল ডিজিজ’য়ের চিনি যে দায়ী ছিল এমনটা নয়। ১৯৭০ সালের দিকে তৎকালীন দুই আমেরিকান গবেষকের মতে, খাদ্যাভ্যাসে কার্বোহাইড্রেট’য়ের মাত্রা বেশি থাকা দাঁত ও মাড়ির রোগের একটি সাধারণ কারণ। পাশাপাশি ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত ওজন, হৃদরোগ ইত্যাদির পেছনেও কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাদ্যাভ্যাসের দোষারোপ করা যায়। তবে সময়ের পরিক্রমায় মানুষ এই ঝুঁকির কথা ভুলে গেছে।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমান গবেষণা বলছে খাদ্যাভ্যাসে অতিরিক্ত চিনি থাকার কারণে ‘পেরিওডন্টাল ডিজিজ’য়ের আশঙ্কা বাড়ে। উপরে উল্লেখিত রোগগুলো ঝুঁকিও বাড়ায় অতিরিক্ত চিনি। তবে দাঁত ও মাড়ির দুটি বড় অসুখ ‘ক্যারিস’ এবং ‘পেরিওডন্টাইটিস’য়ের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতে পারে এমন কোনো ব্যাখ্যা নেই।” ‘জার্নাল অফ ওরাল মাইক্রোবায়োলজি’তে গবেষণাটি প্রকাশিত হয়।
নতুন এই গবেষণার মাধ্যমে গবেষকরা একটি সাধারণ ধারণায় সহমত হয়েছেন যা দাঁত ও মাড়ির দুটি বড় রোগের মধ্যে সম্পর্ক ব্যাখ্যা করতে পারে।
দাঁতে কোনো ব্যাক্টেরিয়া জমলে এবং তা পর্যাপ্ত পরিমাণ পুষ্টি সরবরাহ পেলে সেখানে যে জৈবিক প্রক্রিয়া ঘটে সেটাই হল এই ধারণা বা ‘হাইপোথিসিস’য়ের ভিত্তি, বিশেষত চিনি খেলে।
নিভাদ বলেন, “এক কথায় পুরানো ‘হাইপোথিসিস’, যেখানে বলা হয় চিনি দাঁত ও মাড়ির রোগ বাড়ায়, সেটাকেই আমরা পুনরুজ্জীবিত করছি।
এছাড়াও চিনি খাওয়া কমালেও নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করায় অবহেলা না করার পরামর্শ দেন গবেষকরা। তাদের বিশ্বাস, চিনি খাওয়া থেকে হওয়া ‘পেরিওডন্টাল ডিজিজ’ আর ডায়াবেটিস, স্থূলতা ও হৃদরোগ একই শ্রেণির রোগ। তাই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার প্রতি জনসাধারণের আরও সচেতন হওয়া জরুরি।
ছবি: রয়টার্স।
খবর আইএএনএস/বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।