রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকার নিউ সুপার মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিসের ২৮টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। শনিবার ভোর ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে আগুনের খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (মিডিয়া) শাহজাহান সিকদার।
ভোর ৫টা ৪০ মিনিটে নিউ সুপার মার্কেটে এ আগুন লাগে এবং ৫টা ৪৩ মিনিটে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে বলে সাংবাদিকদের তিনি জানান। পরে ইউনিট সংখ্যা বাড়িয়ে ১৯টি এবং সর্বশেষ ২৮টি করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি কাজ করছে র্যাব, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা। এছাড়া ব্যবসায়ীরাও আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সাহায্য করছে।
সব বিষয় মাথায় নিয়ে তদন্ত করা হবে: ডিএমপি
আমাদের পুলিশের পক্ষ থেকে আমরা সব বিষয় মাথায় রেখে তদন্ত করব। এগুলো নিছক দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত নিউমার্কেট এলাকায় পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, আপনারা জানেন যে আগের দুটা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এর পর আমাদের বঙ্গবাজারে একটি বড় আগুনের ঘটনা ঘটল। শুক্রবার রাতে একটি হাজারীবাগের ট্যানারিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আজকে ভোরে আবার এই নিউমার্কেটে আগুন লেগেছে। বিস্ফোরণের দুটা ঘটনাতেই আমরা মামলা নিয়েছি।
তিনি বলেন, বঙ্গবাজারে আগুনের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। আর আমরা ইন্টারনাল একটা তদন্ত করেছি। যদিও তদন্ত কমিটি করা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, আমাদের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিস্ফোরণের দুটি ঘটনা (সায়েন্সল্যাব ও গুলিস্তান) প্রাকৃতিক গ্যাস জমার কারণে অ্যাক্সিডেন্ট। কারণ আমাদের তদন্তে এখন পর্যন্ত কোনো নাশকতার আলামত খুঁজে পাইনি। আর দুটি আগুনের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তদন্ত প্রতিবেদন দেখলে বুঝতে পারব এগুলো নাশকতা না দুর্ঘটনা।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বের পাশাপাশি মানবিক পুলিশিংটাও আমরা করে থাকি। কোনো ঘটনা ঘটলে আমাদের সবার আগে বলা থাকে ফায়ার সার্ভিস যেন নির্বিঘ্নে আগুন নেভানোর কাজ করতে পারে।
তিনি বলেন, মানুষ যেন ফায়ার সার্ভিসের যাতায়াতের পথে কোনো প্রকার প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে না পারে সেই ব্যবস্থা করা। তার পর কোনো জিনিসপত্র কেউ যেন লুটপাট না করে সেই বিষয়টি দেখা এবং মানবিক পুলিশিং আমাদের তিন নম্বর কাজ। এর জন্য যদি আমাদের ঝুঁকি নিতে হয়, তবে আমরা সেই ঝুঁকি নিতে রাজি আছি।