পাঁচতলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে এক গৃহবধূ ও ১৪ মাস বয়সী তার ছেলের মৃত্যু হয়েছে। মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঘটে রোববার (১৮ ডিসেম্বর) সকাল ৬টার দিকে ঢাকার ডেমরার পশ্চিম সানারপাড় দারুস সালাম মসজিদসংলগ্ন তাজুল ইসলামের পাঁচতলা ভবনে। নিহত গৃহবধুর নাম হালিমা (২২) ও তার ছেলে নাম সাদমান। নিহত মা ও ছেলের মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ মৃত্যু নিয়ে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে চাঞ্চল্যের। তারা ওই বাড়ির ভাড়াটিয়া। খবর পেয়ে ডেমরা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। রোববার দুপুরে তাদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
এদিকে ঘটনাস্থলেই মা হালিমার মৃত্যু হলেও শিশু সাদমানকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে তার চাচা কবির হোসেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় মৃতের স্বামী মো. শাহিনুর রহমানকে ডেমরা থানা পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। হালিমা লালমনিরহাটের কালিগঞ্জ থানার শ্রীখাতা গ্রামের আব্দুল ওহাবের ছোট মেয়ে। শাহিনুর একই এলাকার বুলিয়ার হাট গ্রামের জেহের উদ্দিনের ছেলে। তিনি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানাধীন একটি সরকারি স্কুলে শিক্ষকতা করেন।
মৃতের বড় বোন রাহেনা ও ভাই আবু সাঈদ বলেন, পারিবারিক কলহের জের ধরে আমার বোন ও ভাগনেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে শাহিনুর। হত্যার পর লাশ বাড়ির পাশের ডোবায় ফেলে রেখে ছাদ থেকে পড়ে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছে শাহিনুরসহ তার পরিবার। তারা আরো বলেন, ৩ বছর আগে ভগিনীপতি শাহিনুর তার প্রথম বিয়ে ও সন্তানের কথা গোপন করে আমার বোনকে বিয়ে করেছে। আমার ভাগনে সাদমানের জন্মের ছয় মাস পরে বিষয়টি জানতে পারলে হালিমার ওপর প্রতিনিয়ত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতে থাকে শাহিনুর।
ডেমরা থানার ওসি মো. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা খবর পেয়ে হালিমার লাশ উদ্ধার করি। রোববার দুপুরের দিকে তার ছেলে সাদমানের লাশ নিজের ভাসুর কবির হোসেন থানায় নিয়ে আসেন। এটি হত্যা, না আত্মহত্যা বিষয়টি ময়নাতদন্তের রিপোর্টে বেরিয়ে আসবে। মৃতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে এ বিষয়ে মামলা দায়ের করা হবে।