রমজান শেষেই ঘরে ঘরে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পরবে। সঙ্গে থাকবে বাহারি খাবার। তাছাড়া রোজা রেখে ইফতারেও অনেকেই মুখরোচক খাবার খেতে পছন্দ করেন। তাদের জন্যই আজকের সহজ রেসিপি কাচ্চি বিরিয়ানি।
তবে এই কাচ্চি বিরিয়ানি তৈরি করা হবে একদম ভিন্ন পদ্ধতিতে। যা একদম ঝামেলা ছাড়া সহজেই তৈরি করতে পারবেন। মজার ব্যাপার হচ্ছে বিরিয়ানি দমে দিতে কোনো রকম আটা ব্যবহারের প্রয়োজন হবে না। এক্ষেত্রে ব্যবহার হবে গামছা। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক রেসিপিটি-
উপকরণ: খাসির মাংস (হাড় সহ) ১ কেজি, পোলাওয়ের চাল ১ কেজি, ২টি বড় পেঁয়াজ, লেবুর রস সিকি কাপ, আদা রসুনের পেস্ট ৬ টেবিল চামচ, লাল মরিচের গুড়া আধা টেবিল চামচ, কাঁচা মরিচ ৬ টাএলাচ ৪টি, কালো এলাচ ২টি, দারচিনি ২ টুকরা, তেজপাতা ২টি, পুদিনা পাতা আধা কাপ, ধনেপাতা আধা কাপ, টক দই আধা কেজি, ঘি ২ টেবিল চামচ, তেল ২ কাপ, লবণ পরিমাণ মতো, সেফ্রন বা কেওরা ২ চিমটি ১ কাপ পানিতে গুলানো, টমেটো ১টি, কিউব করা আলু, ৪টি লবঙ্গ গুঁড়া, ১টি জয়ফল গুঁড়া, ১৮ চা চামচ জয়ত্রী গুঁড়া, ১ টেবিল চামচ জিরা গুঁড়া, ৬টি শুকনা মরিচ গুঁড়া, আলু বোখারা ৮ থেকে ১০টি।
প্রণালী: খাসির মাংস ভালো করে ধুয়ে একটা পাত্রে নিন। টক দই, আদা রসুনের পেস্ট, গুঁড়া মশলা লেবুর রস, সামান্য লবণ, তেল দিয়ে ভালো করে মেখে পাত্রের মুখ বন্ধ করে দিন। ২ ঘন্টা পর মাংস মোটামুটি ম্যারিনেট হয়ে যাবে। তবে সারা রাত রাখলে খুব ভালো ম্যারিনেট হবে। পেঁয়াজ ঘিয়ে বাদামি করে ভেজে তুলুন। ঠাণ্ডা হলে মোটা গুঁড়া করুন। আলু হাল্কা বাদামি করে ভেজে তুলুন।
এইবার চাল ধুয়ে অন্য একটা পাত্রে রাখুন। একটা হাঁড়িতে ঘি গরম করেন। পেঁয়াজ কুচি দিয়ে নাড়ুন। যখন দেখবেন পেঁয়াজ নরম হয়ে গেছে তখন এলাচ, কালো এলাচ, দারুচিনি, তেজপাতা দিন। কিছুক্ষন নাড়ুন। এবার লবণ দিন। লবণ দিলে পেঁয়াজ পুড়বে না। তারপর চাল ঢেলে দিন হাঁড়িতে। চালের মধ্যে ১ চামচ আদা রসুন পেস্ট, সামান্য লবণ দিয়ে ভালো করে ভাজুন। যখন দেখবেন চাল হাঁড়ির নিচে আটকে যাচ্ছে তখন গরম পানি দিন। পানি এমনভাবে দিন যাতে পানি চাল থেকে ১ ইঞ্ছি উপরে থাকে।
কিছুক্ষণ পর যখন দেখবেন পানি কমে আসছে, চালের মধ্যে বুদবুদ কম তখন হাড়ির উপরের চাল তুলে আরেকটা গামলায় রাখুন। আধা সিদ্ধ চালের উপরে ম্যারিনেট করা মাংস ঢালেন। মাংসের উপরে আলু বিছিয়ে দিন। এর উপর অল্প ঘি ও আলু বোখারা দিন। গামলায় রাখা কিছু আধা সিদ্ধ চাল আলুর উপর দিন। এর উপরে কুচি কুচি করা পুদিনা পাতা, ধনিয়া পাতা, কাঁচা মরিচ ফালি ছিটিয়ে আবার এর উপর বাকি চাল ঢেলে দিন। চালের উপর এবার সেফ্রনের পানি ঢেলে দিন।
এবার একটি গামছা ভিজিয়ে চিপে নিন। এক্ষেত্রে নতুন গামছা হলে ভালো। এবার ভেজা গামছাটি পেঁচিয়ে হাঁড়ির মুখের চারপাশে ভালোভাবে দিয়ে দিন। তারপর হাঁড়ির মুখের গামছার উপর ঢাকনা এঁটে দিন। একেই বলে গামছা দম।
যদি কাচ্চি বিরিয়ানি গ্যাসের চুলায় রান্না করতে চান তাহলে চুলার উপর হাড়ি বসান। হাঁড়ির ঢাকনার উপরে ফুটানো পানিসহ একটি সস প্যান বসান ২০ থেকে ২৫ মিনিট পর চুলার আঁচ কমিয়ে দিন। আরো এক থেকে দেড় ঘণ্টা পরে বিরিয়ানির সুগন্ধ বের হলে নামিয়ে নিন। তারপর হাঁড়ি হতে সার্ভিং ডিশে ঢালুন। এর উপরে টমেটো কুঁচি, পেঁয়াজ ভাজা ছিটিয়ে পরিবেশন করুন। খবর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম।