রিয়াজুলের আইডিতে তখন ফলোয়ার ছিল ১০ হাজারের বেশি । তাই তিনি ওই লোভনীয় বিজ্ঞাপন পোস্টে কমেন্ট করে জানতে চান, তার ফেসবুক আইডিটি ভেরিফাই করা যাবে কি না? উত্তরে হ্যাঁ-সূচক জবাব দিয়ে তাকে মেসেঞ্জারে যোগাযোগ করতে বলা হয়।
মেসেঞ্জারে যোগাযোগ করা হলে জানানো হয়, তার আইডি ভেরিফাই করতে হলে ১০ হাজার টাকা আর অ্যাকাউন্টের ইমেইল ও পাসওয়ার্ড লাগবে। রিয়াজুল এ প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান। কিন্তু টাকাসহ সব তথ্য সরবরাহের পর দেখা গেল, তিনি আর তার আইডিতে প্রবেশ করতে পারছেন না।
এক পর্যায়ে তিনি দেখেন, তার আইডিটি বিক্রি করে দেওয়ার জন্য একাধিক গ্রুপে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। এরপর রিয়াজুল বুঝতে পারেন যে, তিনি প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়েছেন। চক্রের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে রিয়াজুলকে জানানো হয়, তার আইডি ফেরত পেতে হলে এক লাখ টাকা লাগবে।
এভাবেই ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ভেরিফাই করে দেওয়ার নামে একটি চক্র মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তাদের টার্গেটই থাকে সেলিব্রেটি, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, চিকিৎসকসহ অভিজাত শ্রেণির জনপ্রিয় লোকদের প্রতি।
ডিবির সাইবার ক্রাইম ইউনিটের তথ্যনুসারে জানা যায়, এ পর্যন্ত এক হাজারের বেশি লোক এ চক্রের হাতে প্রতারিত হয়েছেন। ডিবি সাইবার ক্রাইম ইউনিটের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) জুনায়েদ আলম সরকার বলেন, এসব প্রতারক চক্রের অন্যতম হোতা সৈকত মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এক দিনের রিমান্ডে তিনি নিজের প্রতারণা সংক্রান্ত অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। তার নেতৃত্বাধীন চক্রের সদস্যরা কেবল টার্গেট করা ব্যক্তিদের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট লগআউট বা হ্যাক করে টাকা হাতিয়েই ক্ষান্ত হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট বিক্রি করে দিচ্ছেন দেশের বাইরে।
তাছাড়া এসব অ্যাকাউন্টকে ব্যবহার করা হচ্ছে নানা অপরাধ তৎপরতায়। অনেক সময় দেখা যায়, জনপ্রিয় ব্যক্তিদের নামে অনেকে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে রাখেন। এ কারণে বোঝা মুশকিল হয়ে পড়ে কোনটি আসল আর কোনটি নকল অ্যাকাউন্ট। তাই জনপ্রিয় ব্যক্তিদের আসল আইডি চিহ্নিত করতে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ একটি অপশন চালু করেছে। সেটি হলো ‘ব্লু ভেরিফাইড ব্যাজ’।
যদি সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের নামের পাশে নীল বা হালকা কালো রঙের টিকচিহ্ন থাকে, তাহলে বোঝা যাবে সেটি আসল আইডি। তাই নানা শ্রেণি-পেশার লোকজন তার ফেসবুক আইডি বা অ্যাকাউন্টটি ভেরিফাইড করতে চান। আর এ চাওয়াকে কন্দ্রে করেই প্রতারক চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
ডিবি সূত্র জানায়, নরসিংদীতে বসেই সৈকত মিয়া দেশ-বিদেশে বিভিন্ন ব্যক্তির সাথে প্রতারণা করছেন। শুক্রবার সেখান থেকেই তাকে গ্রেফতার করা হয়। সৈকত মিয়া পেশায় একজন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার। তিনি ফেসবুক প্রতারণায় সাথে আট বছর ধরে জড়িত।
তিনি মিসর, লিবিয়া, তিউনিসিয়া, আলজাজিরা ও মরক্কোয় কিছু চক্রের কাছ থেকে ব্লু-ভেরিফাইড ফেসবুক আইডি কিনে তা ব্যবহার করে ছদ্মনামে প্রতারণা করে আসছিলেন। একেক সময় তিনি একেক আইডি ব্যবহার করেন। তার সবকটি আইডিই ভেরিফাইড। এ কারণে ভেরিফাইড প্রত্যাশী লোকজন সহজেই তাকে বিশ্বাস করে তার ফাঁদে পড়ে থাকেন ।