বরগুনা জেলার বেতাগী উপজেলার চান্দখালী ইসহাক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবলুর রহমান বাবুলের বিরুদ্ধে অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে অবিলম্বে তার অপসারণের দাবী জানিয়ে বুধবার (১১ অক্টোবর) সকাল ১০ টায় বিদ্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী,অভিভাবক ও স্থানীয়রা। প্রধান শিক্ষককে অপসারণ করা না হলে শিক্ষার্থীদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার হুশিয়ারী দেওয়া হয়।
অভিভাবকরা জানায়, ওই বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্বা বজলুর রশিদ দুলালের নেতৃত্বে প্রাক্তন ছাত্র জাহাঙ্গীর আলম, অভিভাবক জহির খান, গোলাম ফারুক, গোলাম মোর্শেদ, ইউপি সদস্য, মজিবর রহমানসহ শতাধিক স্থানীয় লোকজন নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। ঘন্টাব্যাপি বিক্ষোভ শেষে সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: বজলুর রশিদ দুলাল বলেন, একজন শিক্ষকের যে আদর্শ নৈতিকতা থাকা প্রয়োজন তা বাবলুর নেই। বাবলু যে অনৈতিক কাজ করেছেন, তাতে আমাদের সন্তানদের এই বিদ্যালয় রাখার কোন পরিবেশ নেই। অবিলম্বে তাকে অপসারণ করা না হলে আমাদের সন্তানদের অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যেতে বাধ্য হব।
তিনি আরো বলেন, একজন প্রধান শিক্ষকের চরিত্র খারাপ হলে সেই বিদ্যালয় কোন ছাত্রী বা শিক্ষার্থী পড়াশোনা করতে পারে না। প্রধান শিক্ষকের কারণে আমরা সমাজে মুখ দেখাতে পারিনা। কতটা নৈতিক অবক্ষয় হলে একজন প্রধান শিক্ষক দিবালোকে একটি মেয়েকে ধর্ষণের চেস্টা করতে পারে। আবার সেই মেয়েটি প্রধান শিক্ষকের গোপনাঙ্গ কেটে দেয়। প্রধান শিক্ষক দীর্ঘদিন বরগুনা ও ঢাকা হাসপাতালে গোপনে চিকিৎসা নিয়ে বরগুনায় আত্মগোপন করে আছেন। তিনি ওই বিদ্যালয়ের সভাপতির উদ্দেশ্য করে বলেন, দ্রুত প্রধান শিক্ষককে অপসারণ করে জাতিকে দায় মুক্তি দিবেন।
এ ব্যাপারে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: বাবলুর রহমান বাবুল বলেন, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। যে মেয়েটিকে নিয়ে কাল্পনিক গল্প তৈরী করতে চায়, সেই মেয়েটি কোথাও কোন অভিযোগ করেনি। এমনকি মেয়েটির বাবা গোলাম মোস্তফা কুট্টিও কোন অভিযোগ করেনি। তিনি বলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা বজলুর রশিদ দুলাল ৪ বার সভাপতি ছিলেন, তিনি সভাপতি হতে না পেরে একটি মেয়েকে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে নাটক সাজিয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, কথিত ঘটনাটি বরগুনা সদরে আমার নিজ বাড়ী সাহেবের হাওলায়। অথচ বীর মুক্তিযোদ্ধা বজলুর রশিদ দুলাল বেতাগী উপজেলায় আমার বিদ্যালয় গিয়ে আমাকে অসম্মান করে যাচ্ছেন। যদি অপরাধ হয়ে থাকে সেটি আমার ব্যক্তিগত। স্কুল সংক্রান্ত কোন ঘটনা নয়। বিদ্যালয় যোগদান করেছেন কিনা জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক বলেন, একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রিপোর্ট পজেটিভ হলে এবং সভাপতি আমাকে যোগদান করতে বললে যোগদান করব। বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো: জাহাঙ্গীর কবীর সাংবাদিকদের বলেন, এ ঘটনায় ৫ সদস্যের একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। তদন্ত টিমের প্রতিবেদন পেয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ৬ সেপ্টেম্বর প্রধান শিক্ষক মো: বাবলুর রহমান বাবুল তার নিজ বাড়ী হরিদ্রাবাড়িয়া তার নিকট প্রতিবেশী ওই বিদ্যালয়ের এক সাবেক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। মেয়েটি তার যৌনাঙ্গ আংশিক কেটে দেয় বলেও অভিযোগ করেন কিছু অভিভাবক। পরে ওই শিক্ষার্থী ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিলে পুলিশ তাকে উদ্বার করে। এ সময় প্রধান শিক্ষককেও রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্বার করে প্রথমে বরগুনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই ঘটনার পর থেকে অভিভাবকরা প্রধান শিক্ষককে অপসারণের দাবি করে আসছে। এক পর্যায়ে সভাপতি ৫ সদস্যর একটি তদন্ত টিম গঠন করেন।