রাজধানী ঢাকার পল্লবীতে সন্তানের সামনে সাহিনউদ্দিন (৩৩) নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় করা মামলার আসামি মনির হোসেন পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। তিনি ওই মামলার ৬ নম্বর আসামি ছিলেন।
শনিবার (২২ মে) দিবাগত রাতে পল্লবীর সাগুফতা হাউজিং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গণমাধ্যমে পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাসিরউদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, আমরা শুনেছি, শনিবার রাতে গোয়েন্দা পুলিশ ওই এলাকায় গেলে আসামিরা পুলিশকে লক্ষ করে গুলি ছোড়ে। প্রাণ বাঁচাতে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এতে মনির গুলিবিদ্ধ হন। পরে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরো বলেন, শনিবার আমরা টহল ডিউটিতে ছিলাম। দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে খবর পাই, সাগুফতা হাউজিংয়ের ভেতর একজন (মনির) পড়ে আছেন। পরে আমরা তাকে উদ্ধার করে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মনিরকে মৃত ঘোষণা করেন।’
এর আগে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে মামলার এজাহারভুক্ত ৫ নম্বর আসামি মো. মানিক র্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছিলেন।
গত ১৬ মে বিকেলে জমির বিরোধের মীমাংসার কথা বলে সাহিন উদ্দিনকে পল্লবী থানার ডি-ব্লকের একটি গ্যারেজের ভেতর নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়। প্রকাশ্য দিবালোকে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা আকলিমা বেগমের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ১৭ মে পল্লবী থানায় হত্যা মামলা হয়।
সাহিনকে কুপিয়ে হত্যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেটি নিয়ে দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
সাহিন হত্যা মামলার প্রধান আসামি হ্যাভেলি প্রাপার্টিজের মালিক লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সাবেক এমপি ও ইসলামী গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান এম এ আউয়াল। তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা সুমন, মো. আবু তাহের, মুরাদ, মানিক, মনির, শফিক, টিটু, কামরুল, কিবরিয়া, দিপু, আবদুর রাজ্জাক, মরন আলী, লিটন, আবুল, বাইট্যা বাবু, বড় শফিক, কালু ওরফে কালা বাবু, নাটা সুমন ও ইয়াবা বাবু। আসামিরা সবাই পল্লবী থানাধীন বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।