নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর শিল্পনগরী এলাকায় প্রিমিয়াম বেভারেজ ফুড এ্যান্ড ড্রিংকিং ওয়াটার লিমিটেড ফ্যাক্টরীর অভ্যন্তরে অভিযান চালিয়ে গার্মেন্টেসের পোশাক চুরির সংঘবদ্ধ চোর চক্রের ৮ জন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১। এ সময় গার্মেন্টেসের কোটি টাকার রফতানীজাত চোরাই পোশাকসহ একটি কাভার্ডভ্যান উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার ভোরে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। এ বিষয়ে দুপুরে র্যাব-১১’র অধিনায়ক (সিও) লেঃ কর্ণেল খন্দকার সাইফুল আলম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলো- মোঃ লিটন (২০), মোঃ দুলাল (৩৫), মোঃ লোকমান চৌকিদার, মোঃ আলাউদ্দিন (৩১), মোঃ শাকিল (১৭), মোঃ মোস্তফা (৪১), মোঃ মিনহাজ আহম্মেদ (৩৫) ও মোঃ রুবেল(২৪)।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব-১১’র অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল খন্দকার সাইফুল আলম জানান, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার অপ্টিমাম ফ্যাশন ওয়ের লিঃ ফ্যাক্টরীর রফতানীজাত পোশাকভর্তি একটি কাভার্ডভ্যান শিপমেন্টের জন্য চট্টগ্রাম বন্দরের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় কাভার্ডভ্যানটি কাঁচপুর বিসিক এলাকায় পৌঁছে প্রিমিয়াম বেভারেজ ফুড এ্যান্ড ড্রিংকিং ওয়াটার লিমিটেড ফ্যাক্টরীর ভেতর ঢুকিয়ে উক্ত ফ্যাক্টরীর কিছু অসাধু কর্মচারী এবং কাভার্ডভ্যানের অসাধু চালক ও হেলপারের যোগসাজশে একটি সংঘবদ্ধ চোর চক্র রফতানীজাত পোশাক চুরি করে আসছিল।
আরো পড়ুন- আ’লীগ নেতার ভাতিজার মোটরসাইকেলে প্রাণ গেল পথচারীর
এই চোর চক্রটি রফতানীজাত পোশাকভর্তি কাভার্ডভ্যানটি তাদের সুবিধামত স্থানে নিয়ে শিপমেন্টের জন্য প্রস্তুত করা ও পোশাকভর্তি কার্টুন খুলে অভিনব কায়দায় প্রতিটি কার্টুন হতে ১০ থেকে ২০টি করে পোশাক চুরি করে আত্মসাৎ করে আসছে। তাদের এ সকল চুরির কারণে গার্মেন্টস মালিকগণ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হতো এবং চাহিদা ও অর্ডার অনুযায়ী শিপমেন্ট দিতে না পারায় বিদেশী ক্রেতাদের নিকট দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হতো।
এ সকল অবৈধ চোরাই কার্যকলাপের প্রেক্ষিতে র্যাব-১১’র একটি বিশেষ দল গোয়েন্দা নজরদারী চালিয়ে বৃহস্পতিবার ভোরে উক্ত ফ্যাক্টরীর ভেতর কাভার্ডভ্যান হতে রফতানীজাত পোশাক চুরির সময় কোটি টাকার চোরাই পোশাকভর্তি ১টি কাভার্ডভ্যান উদ্ধার করা হয় এবং এ সময় চোর চক্রের ৮ সদস্যকে হাতে-নাতে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামীরা স্বীকার করে যে, তারা সংঘবদ্ধ চোরাই চক্রের সক্রিয় সদস্য। এই সংঘবদ্ধ চোরাইচক্রের পলাতক সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে র্যাবের কঠোর নজরদারী অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে তিনি জানান।