রাজশাহীর বাগমারায় এক নবদম্পতির মধ্যে সৃষ্ট বিরোধ মীমাংসা করে দেওয়ার জন্য থানায় ডেকে ধর্ষণ মামলা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যেই পুলিশ ওই মামলার প্রধান আসামি কলেজছাত্র আরমান হোসেনকে (২৬) গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারী) আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।
পুলিশের এই রহস্যজনক ভূমিকার প্রতিবাদে এলাকার লোকজন প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। কাল বুধবার ( ২৭ জানুয়ারী ) এ প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন করা হবে।
স্থানীয় লোকজন সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বুজরুককৌড় গ্রামের আনিসুর রহমানের কলেজপড়ুয়া ছেলে আরমান হোসেনের সঙ্গে একই উপজেলার একজন প্রবাসীর স্কুলপড়ুয়া মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক থেকে ছয় মাস আগে বিয়ে হয়। এরপর গত অক্টোবর মাসে আড়ম্বরপূর্ণ বউভাত অনুষ্ঠানের আয়োজন করে স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন। তবে সপ্তাহখানেক আগে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, এক আত্মীয়ের মাধ্যমে পরিচয়ের পর বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে। মেয়েটিকে (স্ত্রী) বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। আরমান হোসেনের বাবা আনিসুর রহমান বলেন, পুলিশ থানায় সমঝোতার কথা বলে ডেকে ধর্ষণ মামলা নিয়ে তাঁর ছেলেকে কারাগারে পাঠিয়েছে।
তিনি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, তাঁদের বিয়ে হয়েছে এবং বউভাতের বড় আয়োজনের মাধ্যমে ছেলের বউকে ঘরে তুলে নেওয়া হয়েছে। এরপর স্বামীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা গ্রহণ ও গ্রেপ্তার করায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
আরমান হোসেনের বাবা ওই বিয়ের কালেমা পড়ানো মৌলভি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তিনি উভয় পক্ষের অভিভাবকদের উপস্থিতিতে বিয়ের কালেমা পড়িয়েছেন। ওই বিয়ের বরযাত্রী বাগমারা প্রেসক্লাবের সভাপতি আলতাফ হোসেন মণ্ডল বলেন, তিনি তাঁদের বিয়ের বরযাত্রী ছিলেন। উভয়ে স্বামী-স্ত্রী হিসেবেই একসঙ্গে থাকতেন বলে নিশ্চিত করেন তিনি।
গতকাল থানায় আয়োজিত সমঝোতা বৈঠকেও উপস্থিত ছিলেন। আজ দুপুরে তিনি ধর্ষণ মামলার বিষয়টি জেনেছেন। প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণাকারী এলাকার প্রায় অর্ধশত বাসিন্দা বলেন, বিয়ের পর তিন মাস ধরে তাঁরা একসঙ্গে বসবাস করে আসছেন। স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করায় তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আমিরুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, তাঁদের বিয়ে হয়েছে কি না, তা তিনি জানেন না। আরমানকে থানায় ডেকে মামলা নিয়ে গ্রেপ্তারের বিষয় এড়িয়ে গিয়ে তিনি বলেন, আসামি আরমান হোসেনকে এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছেন।