করোনাভাইরাসের আতঙ্ক এখন বিরাজ করছে খাদ্যসামগ্রীর উপরও! এর জীবাণু যে কোনো খোলা জায়গাতেই থাকতে পারে। সেই হিসেবে ফল, সবজি, বিভিন্ন প্যাকেটজাত মোড়কেও থাকতে পারে ভাইরাসটি।
এজন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকেও খাদ্যদ্রব্য জীবাণুমুক্ত করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তবে সেটা না জেনে অনেকেই হাত পরিষ্কারের মতো হয়ত স্যানিটাইজার দিয়ে ফল ও সবজি পরিষ্কার করছেন! বিষয়টি কিন্তু বেশ বিপজ্জনক স্বাস্থ্যের জন্য।
চণ্ডীগড় পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (পিজিআইএমইআর) এর কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগ ও স্কুল অব পাবলিক হেলথের অধ্যাপক ডক্টর সোনু গোয়েল করোনাভাইরাসের এই সময়ে কী করা উচিত আর কী নয়, সে সম্পর্কে জানিয়েছেন। অনেকেই এই সময় বাজারে যাচ্ছেন, ফল, শাক-সবজি কিনে আনছেন ঘরে। তবে এসব ক্রয়কৃত পণ্যের সুরক্ষার বিষয়ে আমরা কীভাবে নিশ্চিত হতে পারি?
এই ভাইরাস সাধারণত সবজি ও ফলের গায়ে ছয় থেকে আট ঘণ্টা বেঁচে থাকে। তবে গরমে চার ঘণ্টার বেশি বাঁচে না। ডক্টর সোনু গোয়েলের মতে, সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, বাড়িতে নিয়ে আসার পরেই সেগুলো ছোঁবেন না অন্তত চার ঘণ্টা প্যাকেট বন্দি অবস্থাতেই রেখে দিন। এরপর প্যাকেটগুলো ফেলে দিয়ে সবজি ও ফল গরম পানিতে কিছুক্ষণ চুবিয়ে রাখুন। পুরোপুরি সুরক্ষার জন্য সেগুলো গরম জল পানি সামান্য বেকিং সোডা দিয়ে সাফ করে নিন।

গরম পানিতে বেকিং সোডা মিশিয়ে পরিষ্কার করে নিন
এই সময় অনেকেই হয়ত না জেনে সবজি ও ফলে স্যানিটাইজার স্প্রে করছেন। এরকম কোনো প্রমাণ মেলেনি যে সবজি ও ফলের গায়ে লেগে থাকা ভাইরাস স্যানিটাইজারে মরে যায়। স্যানিটাইজার হাত, শরীর, ধাতব বা স্টিলের সারফেসের জন্য প্রয়োজনীয়। এতে থাকা রাসায়নিক পেটে গেলে ক্ষতি হতে পারে। গরম পানিই ফল ও সবজির জন্য যথেষ্ট।
চাইলে পানিতে এক ফোঁটা পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট দিয়ে তাতে সবজি বা ফল ভিজিয়ে রাখতে পারেন। সেটা সবচেয়ে নিরাপদ। এর দামও খুব বেশি নয়। পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট না পেলে বেকিং সোডাও ব্যবহার করতে পারেন। সবজি ও ফল ধোয়ার সময়ে মাস্ক পরে থাকতে পারেন।
পেঁয়াজ, রসুন, আদা এসব জিনিস যেগুলো পানিতে ধোয়া যায় না সেগুলোর কী হবে? এসব পণ্যে হাত দেয়ার আগে তিন-চার ঘণ্টা সরিয়ে রাখুন। অন্যদিকে প্যাকেটজাত খাবারগুলো সাবান পানিতে চুবিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এরপর প্যাকেটগুলো ফেলে দিন। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম।