বিশ্ব আজ বিজ্ঞানের শক্তিতে বলীয়ান! তবে আজ থেকে শতশতবছর পূর্বে কেমন ছিলো পৃথিবী? কেমন ছিলো পৃথিবীর সেই প্রকৃতি? সে যেমনি হোক। বিশ্ব সভ্যতার এক অনন্য নিদর্শন চীনের সেই মহাপ্রাচীর। আজ থেকে বহু আগে তৈরী করা সেই প্রাচীর যা আজো পৃথিবীতে উঁচু করে দাড়িয়ে আছে পুরো চীনাংশে।
প্রাচীর শব্দটা কানে যখন ভেসে আসে তখন ই আমাদের মনে করিয়ে দেয় চীনের সেই ৫-৮ মিটার উচু প্রাচীর এর কথা। চীন তার কাজের মাধ্যমে সব থেকে বেশি জায়গা করে নিয়েছে প্রযুক্তির দুনিয়াতে। ঠিক চীন মহাপ্রাচীর তৈরি করে তাক লাগিয়েছিল।
মাটি ও পাথর দিয়ে তৈরি দীর্ঘ তৈরি ইতিহাসের এ প্রাচীর সারি। চীন বহিঃশত্রুদের আক্রমণ কারীদের দূরে রাখা এ ছাড়া সামরিক অনুপ্রবেশ ঠেকানোর জন্য এ ইতিহাস জয়ী প্রাচীর নির্মানের উদ্দেশ্য ।
এ মহা প্রাচীর ৫-৮ মিটার উচু এবং ৮৮৫২ কিলোমিটার লম্বা। এই প্রাচীর মানেনি কোন বাধা। পাহাড়ের বুক চিরে, গিয়েছে মঙ্গোলিয়ার যাযাবর স্তোপ, মরুভূমি আর নদীর উপর দিয়েও।
চীনের উত্তর প্রান্তে ছিল কিছু সংখ্যক রাজ্য। এসব রাজ্যের পর বিভিন্ন যাযাবর জাতির বাস ছিল। এরা চীনের রাজ্যগুলো পেরিয়ে প্রায় হামলা চালাতো। লুট করে নিয়ে যেত রাজ্যের ফসল ক্ষেত থেকে এছাড়াও গবাদিপশু গুলো তাদের হাত থেকে রক্ষা পেত না। এদের লুটপাট থেকে রাজ্যকে বাচানোর জন্য শুরু করে এ মহাপ্রাচীর এর নির্মান কাজ।
খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম শতাব্দীতে, এই প্রাচীর নির্মান এর কাজ শুরু হয়। বিভিন্ন রাজা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অংশ এ প্রাচীর তৈরি করে। তবে ২২০ থেকে ২০৬ খ্রিস্টাপূর্বাব্দে প্রাচীরের সবথেকে দীর্ঘ অংশ চীনের সম্রাট শি হুয়াং। সম্রাট শি হুয়াং এর পর ছিল হান এবং সুই রাজবংশের বিভিন্ন সম্রাটরাও প্রাচীর এর বিভিন্ন অংশ নির্মান ও মেরয়মত করেছেন।
১৮৬০ সালে ২য় অপিয়াম যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর চীনের সীমান্ত বিদেশিদের জন্য খুলে দেন। এরপরই ধীরে ধীরে চীনের এই প্রাচীর দর্শনার্থীদের কাছে খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠে। যা দেখতে এখন বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে দর্শনার্থীরা ভিড় জমায় এই মহা প্রাচীর প্রাঙ্গণে।
মোঃ মারুফ শরীফ
শিক্ষার্থী,হিসাববিজ্ঞান বিভাগ
(শিক্ষাবর্ষ: ২০১৮-১৯)
সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজ, গোপালগঞ্জ।