বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ভোলা-৩ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম বলেছেন, শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ কত রকমের চুরি করেছে, পৃথিবীর ইতিহাসে তা কেউ করতে পারেনি। হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশি সরকার আমাদের দেশের জন্য অনুদান দিত, সেই অনুদান উন্নয়ন কাজের নামে লুটপাট করে তারা আবার বিদেশে পাচার করে দিত। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) নিজের মনোনয়নপত্র জমা উপলক্ষে বিএনপির আয়োজনে বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে মেজর হাফিজ এসব কথা বলেন। লালমোহন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে লালমোহন উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিয়নের বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এতে উপস্থিত হন।
মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বিকেলে সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে নিজের মনোনয়ন ফরম জমা দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- লালমোহন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জাফর ইকবাল, সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম বাবুল, বিএনপি নেতা অধ্যক্ষ মো. ফরিদ উদ্দিন, শফিউল্যাহ হাওলাদার, সোহেল আজীজ শাহীন, পৌরসভা বিএনপি’র সভাপতি আলহাজ্ব ছাদেক মিয়া জান্টু, সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বাবুল পাটোয়ারী, উপজেলা যুবদল সভাপতি কবির হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক কাজী হাসানুজ্জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক বশির হাওলাদার, পৌরসভা যুবদলের সভাপতি মো. জাকির ইমরান, সাধারণ সম্পাদক মো. ফজলে রাব্বী নাফিজ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক প্রভাষক রেজাউর রহমান শাহিন, সদস্য সচিব মো. শহিদুল ইসলাম, উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি আব্দুল হাই হাওলাদার, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি শাহিন হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ রেজা প্রমুখ।
মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রবাসীরা কস্ট করে আমাদের দেশে রেমিট্যান্স পাঠায়। সেই টাকাও চুরি করে তারা বিদেশে পাঠিয়ে দিত। একের পর এক বিএনপিসহ বিরোধী মতের লোকদের ধরে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করত, আয়না ঘরে বন্দি রেখে নির্যাতন করত। ‘গুম’ নামে একটা শব্দ আছে বাংলাদেশের মানুষ আগে জানতো না। ক্ষমতার জন্য কত নিষ্ঠুরতা করতে পারে শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ তা দেখিয়ে দিয়েছে।
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম বলেন, আমি এই আসন থেকে মানুষের ভালোবাসায় পরপর ৬ বার এমপি নির্বাচিত হয়েছিলাম। আমার সাথে আওয়ামী লীগের তোফায়েল আহমেদও নির্বাচন করে অর্ধেক ভোট পেয়েছেন। গত ১৬ বছরের নির্বাচনের ইতিহাস তো সবার জানা। শেখ হাসিনা দেখলেন এ আসনে ভোটে তাদের কেউ জিততে পারবে না, তখন তিনি বেছে বেছে বড় একটা সন্ত্রাসীকে পাঠালেন, তিনি লালমোহনের ভোটারও ছিলেন না। নির্বাচনের ১৫ দিন আগে এসে বিএনপির এজেন্টদের বাড়িতে গিয়ে রামদা দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। মহিলাদের নির্যাতন করে। বিএনপির কেউ ভোট কেন্দ্রে যেতে পারেনি। অধিকাংশ কেন্দ্র দখল করে এভাবে নির্বাচনের নামে প্রহসন করে। মেজর হাফিজ বলেন, অতীতে আমার কোনো অন্যায়, দুর্নীতি কেউ খুঁজে পায়নি। আগামীতেও সেভাবে এলাকা চালাব ইনশাআল্লাহ। আপনারা আমার পাশে থাকবেন।