নীলফামারীতে ধর্ষণের পর হত্যার মামলায় আনোয়ারুল হক ও ছামিউল ইসলাম ওরফে শুভ নামে দুইজনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদন্ড দেয়া হয়েছে। সোমবার (১ ডিসেম্বর) সাজাপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের এ দন্ড দেন সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালত ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক জিয়াউদ্দিন মাহমুদ।
মামলার আরজি সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ১৫ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় গৃহবধূ শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদ করে বাবার বাড়িতে চলে আসেন। পরের দিন অর্থাৎ ২০২০ সালের ২১ আগস্ট ভোর সাড়ে ৫টা থেকে তাকে কোথাও খুঁজে পাননি তার মাসহ বাড়ির অন্যরা।
২০২০ সালের ২২ আগস্ট সকাল ৮টার দিকে সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর মৎস্য খামারের পেছনে একটি জমিতে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটির পাশ থেকে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে সৈয়দপুর থানায় মামলা করেন মৃত গৃহবধূর মা। মামলা দায়েরের পর থেকেই নিবিড়ভাবে তদন্ত কার্যক্রম শুররু করে সৈয়দপুর থানা পুলিশ। পুলিশি তদন্তে প্রকাশ পায়, গৃহবধূকে গণধর্ষণের পর হত্যা করেছে সাজাপ্রাপ্তরা।
নীলফামারী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১’র পাবলিক প্রসিকিউটর এ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান খান রিনো সোমবার জানান, গৃহবধূ হত্যা মামলায় দুই আসামির বিরুদ্ধে মোট ১৪ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলাটি দীর্ঘ শুনানি শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত দুই আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড এবং প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদন্ড প্রদান করেন। এ রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে জানান তিনি।