সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে মা ও তার দুই সন্তানের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতরা হলেন নাজনীন (২৮), কন্যা নুসরাত (৬) ও খাদিজার (২)। ঘটনাস্থলে থেকে নিহতের ভাগনিকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় নিহতের স্বামী সুমন সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি সিআইখোলাস্থ বাসায় এসে তাদের গলাকাটা রক্তাক্ত লাশ দেখে তার বাবা নিজামকে ঘটনাটি অবহিত করে।
ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে আসা নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ বলেছেন, মূলত পারিবারিক কলহের জের ধরেই তিনটি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে এ হত্যাকান্ডের ঘাতক হলেন নিহতের ভগ্নিপতি আব্বাস। সকাল ৮টায় ঘাতক আব্বাস এ ঘটনা ঘটান। আব্বাসের সঙ্গে তার স্ত্রীর ইয়াসমিন আক্তারের বিরোধ ছিল। ওই বিরোধের কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে আব্বাসের শ্যালিকা নাজনীনের বাসায় চলে আসেন তার স্ত্রী। আব্বাস তার প্রতিবন্ধী মেয়ে সুমাইয়াকেও (১৫) জখম করেছে।
এদিকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে পাঁচটায় অভিযুক্ত আব্বাসকে গ্রেফতার করেছেন বলে জানিয়েছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (সার্ভিস) কামরুল ফারুক। সিদ্ধিরগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয় বলে তিনি জানান।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, সিদ্ধিরগঞ্জের সিআইখোলা এলাকায় জনৈক আনোয়ারের ৬তলা ভবনের ৬ষ্ঠ তলায় স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন জনৈক সুমন। সুমন সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাকস্থ জোনাকী ফিলিং ষ্টেশনের কর্মচারী। রাতে ডিউটি শেষে সকালে বাসায় এসে রক্তাক্ত অবস্থায় তার স্ত্রী নাজনীন (২৮), কন্যা নুসরাত (৮) ও খাদিজার (২) লাশ দেখতে পায়। এলাকাবাসী থেকে খবর পেয়ে প্রথমে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ, পরবর্তীতে ডিবি, পিবিআই, নারায়ণগঞ্জ সিআইডি এবং সিআইডির ঢাকার ক্রাইমসিন বিভাগের সদস্যরা ঘঠনাস্থলে এসে নমুনা সংগ্রহ করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১টি ধারালো ছুরি, পুতুল ও ১ টি মোবাইল উদ্ধার করে।
সুমাইয়া হাসপাতালে পুলিশকে বলেছেন, ‘আমার বাবা আমাকে হত্যার চেষ্টা করেছে। আমার বাবাই খালামনি নাজনীন বেগম ও তার দুই মেয়ে নুসরাত ও খাদিজাকে হত্যা করেছে। আমার বাবা মাদকাসক্ত ছিলেন। গতকালও আমাকে মারধর করেছে। সে কারণেই গতকাল আমি ও আমার মা খালামনির বাসায় চলে আসি।
নিহতের স্বামী সুমন জানান, তিনি সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক এলাকার জোনাকী পেট্রোল পাম্পে রাতে ডিউটি শেষে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় বাসায় ফিরেন। ওইসময় বাসার দরজা খোলা ছিল। ভিতরে প্রবেশ করতেই স্ত্রী সন্তানদের লাশ দেখতে পায়। আর আহত অবস্থায় তার ভায়রার মেয়ে সুমাইয়া পড়ে আছে। পরে অন্য ভাড়াটিয়া ও আত্মীয় স্বজনকেসহ পুলিশকে খবর দেয়।
নিহতের ছোট ভাই হাসান জানান, প্রায়ই মাদক সেবন করে আমার বড় বোনের স্বামী আব্বাস মিয়া বাড়িতে এসে মারধর করতো সকলকে। এ ঘটনায় আমার ভাগ্নি সুমাইয়া বাড়ি থেকে লুকিয়ে পালিয়ে খালার বাসায় বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) চলে আসে। পরে রাতের কোন এক সময় তাকে নিতে আসে আব্বাস। আব্বাসই তিনজনকে গলাকেটে হত্যা করে নিজের মেয়েকেও কুপিয়ে আহত করেছে।
নিহতের বোন ইয়াসমিন জানান, সে আদমজী ইপিজেডে সুপ্রীম স্মাট নীট ওয়ারে নামের একটি গার্মেন্ট কারখানায় চাকরি করে। তার স্বামী আব্বাস মিয়া মাদকাসক্ত। প্রতিবন্ধী মেয়ে সুমাইয়াকে মারধরের কারণেই সে বুধবার রাতে ছোট বোন নাজনীনের বাসায় চলে আসে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় সে বাসা থেকে কর্মস্থলে যায়। পরেই হত্যাকান্ডের ঘটনাটি ঘটেছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক সাজ্জাদ রোমন জানান, মা ও দুই সন্তান সহ তিনজনের লাশ উদ্ধার ও আহত একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়েছে। প্রাথমিক ধারণা পারিবারিক কলহের জের ধরে ছুরিকাঘাতে তিনজনকে হত্যা করেছে। আরেকজনকে আঘাত করলে সে আহত হয়। তাকেও আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।