ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবদ) বলেছেন, বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কিংবা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে কোনো ধরনের ব্যবসা করতে চায় না। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পুঁজি করে রাজনৈতিক ব্যবসা করেছে। বর্তমানে আরেকটি দল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ব্যবহার করে একই ধরনের ব্যবসা করছে। আমরা কোনো চেতনাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চাই না; বরং মুক্তিযোদ্ধা থেকে শুরু করে জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবার যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে চাই।
সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে নিজস্ব তহবিল থেকে মুক্তিযোদ্ধা ও অসচ্ছল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আর্থিক অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সনাতনী হিন্দু সম্প্রদায়ের কল্যাণে নিজস্ব অর্থায়নে গঠিত কল্যাণ তহবিল হতে মোট ১০ লক্ষ টাকার আর্থিক অনুদান এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সফলদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর গুরুত্বারোপ করে ধর্মমন্ত্রী বলেন, “আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সংখ্যালঘুদের জান, মাল ও ইজ্জত রক্ষা করা আমাদের সকলের পবিত্র আমানত। এই আমানত রক্ষা করতে হবে।” তিনি বলেন, হিন্দু সমাজের ভাইয়েরা গত নির্বাচনে যে সহযোগিতা আমাকে করেছেন, শুধু তাই না আমার যখন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ছিল তখন আপনারা আমার মুক্তির জন্য মানববন্ধন করেছিলন। আমি আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ; তবে আমাদের সবাইকে মিলেমিশে চলতে হবে।
ধর্মমন্ত্রী দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “স্বাধীনতার যুদ্ধে যারা অংশগ্রহণ করেছেন বিশেষ করে আমাদের দলের যিনি প্রতিষ্ঠাতা, যিনি আমাদের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যার জন্য আজকের এই দল; উনি তো একজন মুক্তিযোদ্ধা”।
ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছেন, যার যার সম্মান আমরা দেব এবং মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই চেতনার ওপর ভিত্তি করে আমাদের চলতে হবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন বৃদ্ধি, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিন ও ধর্মগুরুদের সম্মানী ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, প্রবাসী কার্ড এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালুর মতো জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপগুলো তারেক রহমানের নির্দেশনায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই আট মাসে এত কাজ করার জন্য তিনি সবার কাছে তারেক রহমানের জন্য দোয়া চান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী গরিবের বন্ধু, অসহায়েরর বন্ধু, সাধারণ মানুষের বন্ধু। আপনারা উনার জন্য দোয়া করবেন যাতে আল্লাহ উনাকে নেক হায়াত দান করেন। উনাকে যেন আল্লাহ পাক সমস্ত ষড়যন্ত্র থেকে হেফাজত করেন”।
শিক্ষার মানোন্নয়নে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে ধর্মমন্ত্রী বলেন, মুরাদনগরের পরীক্ষার ফলাফলে তিনি অত্যন্ত কষ্ট পেয়েছেন। তিনি শিক্ষকদের শিক্ষার মান উন্নত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল পরপর দুই বা তিনবার খারাপ হবে, তাদের এমপিও বন্ধের জন্য সুপারিশ করবেন।” সরকার থেকে সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করবেন, কিন্তু শিক্ষার্থীদের ফলাফল ভালো হবে না, তা তো হতে পারে না। আমাদের ভাইয়েরা অনেক আশা নিয়ে তাঁদের সন্তানদের স্কুলে পাঠান। সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন শিক্ষার্থীদের ফলাফলে থাকতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, “আমি আজকে প্রতিভা স্কুলে গিয়েছিলাম এবং সেখানকার পরিবেশ দেখে অত্যন্ত অভিভূত হয়েছি। আমার স্যারের মেয়ে, বিশেষ করে প্রশাসনের সহযোগিতায় এত সুন্দর একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন। যাদের জন্য এই স্কুলটি করা হয়েছে, তারা সমাজে অবহেলিত এবং অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে জীবনযাপন করছে”। তিনি আরও বলেন, “আমি ঘোষণা দিয়েছি যে, এই স্কুলের কল্যাণে প্রয়োজনবোধে যদি আমার রক্ত দিতে হয়, আমি তা-ও দেব।”
উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)- এর নিজস্ব তহবিল থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৫ লক্ষ টাকা এবং সনাতনী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৫ লক্ষ টাকা অনুদান প্রদান করা হয়। এছাড়া, মুরাদনগর উপজেলায় ১ লক্ষের অধিক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার মধ্যে প্রথম স্থান অধিকারীকে ১০,০০০ টাকা, দ্বিতীয় স্থান অধিকারীকে ৭,০০০ টাকা এবং তৃতীয় স্থান অধিকারীকে ৫,০০০ টাকা পুরস্কার প্রদান করা হয়। পুরস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “পুরস্কারটা বড় জিনিস নয় ভাই, এটা হলো আপনাদেরকে উৎসাহিত করা যে আপনারা প্রধানমন্ত্রীর কথাকে রক্ষা করার জন্য এই একটা উপজেলায় এক লক্ষের অধিক বৃক্ষরোপণ করেছেন; আমি আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ, আমি অভিভূত”।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, সনাতন ধর্মাবলম্বী, জনপ্রতিনিধি, উপজেলায় কর্মরত বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ, বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, গণমাধ্যমের সাংবাদিকবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।