বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি ঐতিহাসিক শক্তিশালী নির্বাচন হবে। দীর্ঘ ১৬-১৭ বছরের এ স্বৈরাচারী ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে, শহীদদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে এ গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে। মুক্ত স্বাধীনভাবে ইনশাল্লাহ আমরা আগামী সংসদ নির্বাচনে ভোট প্রয়োগ করব। এই ভোটাধিকারের জন্য আমরা রক্ত দিয়েছি, সংগ্রাম করেছি। বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) মগনামা ইউনিয়নের ফুলতলা স্টেশনে নির্বাচনি পথসভায় সালাহউদ্দিন আহমদ এসব কথা বলেন। সালাহউদ্দিন আহমেদ কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের বিএনপি প্রার্থী
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- সালাহউদ্দিন আহমদের সহধর্মিণী ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট হাসিনা আহমদ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও চেয়ারম্যান এম বাহাদুর শাহ, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোছাইন, মগনামা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফায়সাল চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক জাকের হোসাইন, উজানটিয়া বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক জাফর আলম, পেকুয়া সদর পশ্চিম জোন বিএনপির সভাপতি শাহনেওয়াজ আজাদ, সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোনাফ, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কামরান জাদিদ মুকুট, যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম, মুহাম্মদ ইয়াসিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আহসান উল্লাহ, তাঁতী দলের আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন, ছাত্রদলের আহ্বায়ক নাঈমুর রহমান হৃদয়সহ দলীয় নেতাকর্মীরা।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের মানুষ রক্ত দিয়েছেন। ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে। আওয়ামী গোষ্ঠী শেখ হাসিনা পালাতে বাধ্য হয়েছে। এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শক্তিশালী গণতান্ত্রিক পদ্ধতি প্রতিষ্ঠা হবে। সাংবিধানিক অধিকার, মানবাধিকার, নাগরিক অধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকারসহ সব অধিকার বাস্তবায়ন হবে। এর আগে তিনি মগনামা মৌলভীপাড়ায় মাওলানা জাফর আহমদ মজিদীর কবর জিয়ারত করেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা বিএনপির পক্ষ থেকে ২০২৩ সালে ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচি প্রদান করেছিলাম। এ দেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি, সমৃদ্ধি ও গণতান্ত্রিক অধিকার সংরক্ষিত করাই হচ্ছে ৩১ দফার মূল উদ্দেশ্য।
নিজ জন্মভূমি পেকুয়ায় দ্বিতীয় দিন মগনামায় নির্বাচনি জনসংযোগ করেন। এ সময় হাজার হাজার নেতাকর্মী নিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ জনসংযোগ করেন। পথসভা শেষে সিকদারপাড়ায় সাবেক সংসদ সদস্য বিএনপির সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রয়াত মাহামুদুল করিম চৌধুরীর কবর জিয়ারত করেন।
এরপর বিভিন্ন এলাকায় জনসংযোগ করে মুহুরীপাড়া, কাজী মার্কেট স্টেশন, কালারপাড়া স্টেশনে পথসভা করেন। পরে তিনি রঙিখালের পূর্বকূল এবাদুল্লহপাড়ায় আগুনে পুড়ে যাওয়া ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি ৮টি ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
এছাড়া পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী উজানটিয়ার বিভিন্ন এলাকায় জনসংযোগ করেন এবং কবির আহমদ স্টেশন, করিমদাদ মিয়ার জেটিঘাট স্টেশন, গুদারপাড় স্টেশন, সোনালী বাজার স্টেশনে পথসভায় যোগ দেন। মগনামা ও উজানটিয়া দুই ইউনিয়নে মোট সাতটি পথসভায় তিনি অংশ নেন। সর্বশেষ বিকালে পেকুয়া সদর ইউনিয়নের ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে পথসভা করেন তিনি। পথসভা ও জনসংযোগে জনগণের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রিয় নেতাকে দেখতে ও স্বাগত জানাতে সড়কের পাশে অসংখ্য নারী পুরুষ অবস্থান করেন। অনেকে তাদের প্রিয় নেতাকে দেখে আবেগাপ্লত হন।