বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীর বিক্রম) বলেছেন, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে প্রায় আটশ আয়নাঘর বানিয়েছিল। এসব আয়না ঘরে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মাসের পার মাস বন্দী করে নির্যাতন করেছে। তাদের অপরাধ, আওয়ামী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে কথা বলেছে, শেখ হাসিনার অবৈধ ভোটের বিরুদ্ধে কথা বলেছে। তাদের ১৭ বছরের ইতিহাস অত্যাচার নির্যাতন এবং দুঃশাসনের ইতিহাস। তাদের অপকর্ম এতো বেড়ে গিয়েছিলো যে, শেষ পর্যন্ত আল্লাহর গজব তাদের উপর নেমে এসেছে। নির্যাতিত মানুষের অভিশাপে শেখ হাসিনা পালাতে বাধ্য হয়েছে। আগামী ত্রিশ-চল্লিশ বছরেও তাদের আর ফেরার সুযোগ নেই। শনিবার (১৫ নভেম্বর) নিজ এলাকা ভোলার লালমোহনে গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জাফর ইকবালের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুলের সঞ্চালনায় গণসংবর্ধনায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক শফিউল্যাহ হাওলাদার, সোহেল আজীজ শাহীন, পৌরসভা বিএনপির সভাপতি সাদেক মিয়া জান্টু, সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বাবুল, উপজেলা যুবদলের সভাপতি শাহিনুল ইসলাম কবির হাওলাদার প্রমুখ।
মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিএনপি জনগণের স্বার্থে রাজনীতি করে এবং আমরা জুলাই সনদে যেসব বিষয়ে স্বাক্ষর করেছি সেগুলো আমরা মেনে নেব। নতুন কোনা দাবি-দাওয়া আমরা মেনে নিব না। হাফিজ উদ্দিন বলেন, বিএনপি আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে আমি এসেছি। এবার আপনারা মনোনয়ন দিলে আমি নির্বাচন করব।
মেজর হাফিজ বলেন, আমি আমদানী করা পাবলিক না। ২০ বছর এই এলাকার এমপি ছিলাম। আমি কোন দুর্নীতি করিনি। সন্ত্রাসী কর্মকান্ডকে প্রশ্রয় দেইনি। যারা সন্ত্রাসের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি হয়েছে তারা শুধু লুটপাট করেছে। দেশের টাকা বিদেশে পাঠিয়েছে। ১৭ বছরে তারা বহু মায়ের বুক খালি করেছে। আল্লার গজবে তারা আজকে দেশ ছাড়া। আল্লাহর শাস্তি কী ভয়ঙ্কর। আওয়ামী লীগ যেভাবে মানুষের উপর অত্যাচার নির্যাতন করেছে, তাদের অভিশাপে শেখ হাসিনা পালাতে বাধ্য হয়েছে। অনেকে বড় বড় কথা বলেছিলো, ‘শেখ হাসিনা পালায় না’। এখন ভারতে বসে শেখ হাসিনা মোদির আশ্রয় নিয়েছে। কোলকাতায় অফিস খুলে বসেছে। সেখানে বসে বসে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের ট্রেনিং নিচ্ছে। সেখানে থেকে কেউ কেউ দেশে এসে বাসে, বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটাচ্ছে।
মেজর হাফিজ বলেন, কোলকাতায় যারা অফিস খুলেছে তাদের পরামর্শ দিতে চাই, ভারতের যতগুলো প্রদেশ আছে প্রত্যেক প্রদেশে অফিস খুলে বসুক। তারা ভারতে আন্দোলন করুক। বাংলাদেশে তাদের আসার আর কোন প্রয়োজন নেই। আগামীতে যে নির্বাচন হচ্ছে, সেই নির্বাচনে তাদের আর অংশগ্রহণ করা হচ্ছে না। তাদেরকে অন্তবর্তীকালীন সরকার নিষিদ্ধ করে দিয়েছে। আগামী ত্রিশ-চল্লিশ বছরে তাদের আর বাংলাদেশে আসা সম্ভব হবে না।