জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, আওয়ামীলীগ বাংলাদেশে এখন অপ্রাসঙ্গীক। আমাদের সামনে ভাবতে হবে। সামনের বিষয় নিয়ে চিন্তা করতে হবে। আমরা দেখেছি টকশোতে যারা আওয়ামীলীগের লেসপেনসার ছিলো। যারা আওয়ামীলীগের সুবিধাভুগি ছিলো, পেইড কিছু বুদ্ধিজীবি আছে যাদেরকে ভাড়ায় খাটানো যায়। তারা আওয়ামীলীগের পক্ষে বৈধতা উৎপাদন করেছে। কিন্তু বিগত কয়েক মাসের কার্যক্রমে তাদের বুঝে যাওয়া উচিত ছিলো আওয়ামীলীগ কখনোই গণমানুষের দল ছিলো না। আগুন, সন্ত্রাস, জ¦ালাও প্ড়োাও এগুলো কারা করেছিলো অতিতে এবং বর্তমানে কারা করছে এটা মানুষ জানে।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) নারায়ণগঞ্জে জেলা সমবায় ভবনের নবম তলায় এনসিপির জেলা কার্যালয় উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ও শৃঙ্খলা কমিটির প্রধান আবদুল্লাহ আল আমিন, কেন্দ্রীয় সংগঠক শওকত আলী, কেন্দ্রীয় সদস্য আহমেদুর রহমান তনু ও জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহ-সভাপতি তুহিন খান প্রমুখ।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আওয়ামীলীগের যে পতন সেটি কিন্তু নিয়মতান্ত্রিক ভাবে হয়নি। এটি কিন্তু ব্যালটের মাধ্যমে হয়নি। যে নিয়তান্ত্রক ভাবে রাজনীতির মাঠে ফিরিয়ে নিয়ে আনা হবে। আওয়ামীলীগের পতন হয়েছে একটি গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে দিয়ে। এটি ছিলো সার্বজনীন মেন্ডেন্ট। গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে দিয়ে যে রাজনৈতিক দলের পতন হয় সেই দলের রাজনীতি করার সুযোগ নেই।
হাসনাত আব্দুল্লাহ আরো বলেন, যেহেতু গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের পতন হয়েছে, স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ব্যালটের মধ্য দিয়ে এই দলটিকে ফিরিয়ে আনার যারা বৈধতা উৎপাদন করছে তারা মূলত আগুন সন্ত্রাসের পক্ষে বৈধতা উৎপাদন করছে। তারা বুলেটের পক্ষে বৈধতা উৎপাদন করছে। এত বছর ধরে যারা ব্যাংক লুট করেছে, তাদের পক্ষে বৈধতা উৎপাদন করছে। তারা যারা গুম, খুন, হত্যা, নির্যাতন, নিপীড়ন যেটি হয়েছে, সেটির পক্ষে বৈধতা উৎপাদন করছে। আমাদের হিন্দুদের ওপর যে নির্যাতন আওয়ামী লীগ করেছে, মাইনোরিটিকে যেভাবে ক্লাসিফাইড করেছে, সেটির পক্ষে তারা বৈধতা উৎপাদন করছে।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচন কার্যক্রমকে ফ্যাসিলিটেড করতে চাই। এই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমাদের গণতান্ত্রিক পটপরিবর্তন ও গণতান্ত্রিক উত্তরণের কোনো বিকল্প নেই। অবশ্যই নির্বাচন হতে হবে। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের দিকে আমাদের যেতে হবে। যেটির জন্য আমরা দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীরা শ্রম দিয়েছে, ঘাম দিয়েছে, রক্ত দিয়েছে, পরিবারকে ত্যাগ করেছে। তারা সামাজিক-রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। আমরা এনসিপি ফ্যাসিবাদবিরোধী যেকোনো রাজনৈতিক দলের, যারা গণতন্ত্রের স্বার্থে লড়াই করেছে, তাদের প্রত্যেকটি ত্যাগকে আমরা ধারণ করি এবং যারা ধারণ করে আমরা চাই একটি গ্রহণযোগ্য, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। যেখানে জনগণের অংশগ্রহণ থাকবে এবং সেই প্রক্রিয়াকে আমরা ফ্যাসিলিটেড করছি।
তিনি বলেন, ফ্যাসিলেশনের জন্য আমরা চেয়েছি ইন্সটিটিউশনাল রিফর্মেশন। আবার যদি মধ্য রাতে ডিসি ভাগাভাগি হয়, এসপি ভাগাভাগি হয়, আবার যদি এসপি, ওসি, এসআইকে দাঁড় করিয়ে রেখে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় যে নির্বাচনের মূল ভূমিকায় পার্টানিস্টের ভূমিকায় চলে যাবে প্রশাসন, আর জনগণ হয়ে যাবে মাইনর আসলে সেই নির্বাচন দিয়ে গণতান্ত্রিক প্রত্যাশিত রূপান্তর কতটুকু ঘটবে, সে বিষয়ে আমরা সন্দিহান। সে জন্যই প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রস্তাবনা আমাদের কাছ থেকে এসেছিল, যাতে জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হয়। হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, নারায়ণগঞ্জের গডফাদার রাজনীতি এই জেলার ইতিহাসকে কুলষিত করেছে। আমার আর কেউ এই জেলার রাজনীতি কুলষিত করুক তা চাই না।