নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, আমি কোথায় যাব। আমি এখানেই আছি, আমার পুরো ফ্যামিলি এখানে আছে। মরে গেলে এখানেই মরে যাব। পালাব কোথায়। তিনি বলেন, যাদের বন্দর পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে তারা আমার চাচাও না মামাও না। দেশ এগিয়ে যাক সেটাই আমি চাই। বিদেশিদের সঙ্গে চুক্তি, উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণসহ যা কিছু করা হচ্ছে তা দেশের স্বার্থেই করা হচ্ছে। সোমবার চট্টগ্রাম বন্দরের বাস্তবায়নাধীন তিনটি প্রকল্পে টার্মিনাল ও ইয়ার্ডের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন উপদেষ্টা সাংবাদিকদের এ সব কথা বলেন।
এ সময় চট্টগ্রাম বন্দরের বাস্তবায়নাধীন পতেঙ্গার লালদিয়ার চরে কনটেইনার ইয়ার্ডের নির্মাণকাজ, বঙ্গোপসাগরের উপকূলে হালিশহরে বে-টার্মিনাল এলাকায় নির্মিত পরিবহণ টার্মিনাল এবং তালতলায় নির্মিত কনটেইনার ইয়ার্ডের উদ্বোধন করেন উপদেষ্টা। তিনি বন্দরের এক্স-ওয়াই শেড এবং কাস্টমস অকশন শেডও পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম মনিরুজ্জামান ও সচিব মো. ওমর ফারুকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় বর্ধিত ট্যারিফের বিষয়ে নৌপরিবহণ উপদেষ্টা বলেন, যেহেতু বিষয়টি আদালতে গড়িয়েছে সেপেহতু এখন এটা নিয়ে কথা বলতে চান না। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সেবাখাতে ৪১ শতাংশ বর্ধিত ট্যারিফ কার্যকর করেছে। ব্যবসায়ীদের দাবি ও আন্দোলনের মুখেও কোন কর্ণপাত না করায় ব্যবহারকারীরা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন। রোববার উচ্চ আদালত এক মাসের জন্য বর্ধিত মাশুল স্থগিত করা হয়েছে।
উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন আরও বলেন, আমাদের একবিংশ শতাব্দীতে থাকতে হবে, আবার একবিংশ শতাব্দী থেকে বেরও হয়ে যেতে হবে। একসময় তো আমরা মোবাইল-টেলিফোন দেখিনি। এখন মোবাইল টেলিফোন আছে। আজকাল আবার মোবাইল টেলিফোনের বাইরে গিয়ে দেখছি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই)। চীনে আমি একটা পোর্ট দেখে আসছি, যেখানে পাঁচজন লোক পোর্ট চালাচ্ছে। আমি ওখানে ঢুকে মনে হলো যে আমি একটা ‘ঘোস্ট ’ ছবি দেখছি। কোনো মানুষ নেই, জন নেই তৈরি হচ্ছে-যাচ্ছে আর বের হয়ে যাচ্ছে। আবার সামনে বাধা পাচ্ছে, সরে যাচ্ছে। আমরা এই প্রযুক্তির মধ্যে থাকব নাকি এই প্রযুক্তির মধ্যে থাকব না?