বাংলাদেশের জন্য ৪৭০ কোটি ডলার ঋণের দ্বিতীয় কিস্তি ছাড়ের প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলে (আইএমএফ)। এই অর্থ আগামী শুক্রবার (১৫ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভে যুক্ত হবে বলে সূত্রে গেছে। মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ে নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে দ্বিতীয় কিস্তিতে প্রায় ৬৯ কোটি ডলার অর্থ ছাড়ের বিষয়টির অনুমোদন দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার বৈঠকের পর আইএমএফ এক বিবৃতিতে বলেছে, বাংলাদেশকে বর্ধিত ঋণসহায়তা (ইসিএফ), বর্ধিত তহবিল সহায়তা (ইএফএফ) ও রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ফ্যাসিলিটি (আরএসএফ)- এ ৩ টি ভাগে ঋণ দিচ্ছে। এবার ইসিএফ বা ইএফএফের আওতায় ৪৬ কোটি ৮৩ লাখ ডলার এবং আরএসএফের আওতায় ২২ কোটি ১৫ লাখ ডলার ঋণ ছাড়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ৬৮ কোটি ৯৮ লাখ ডলার ঋণ ছাড় করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা বাসস জানায়, বহুপাক্ষিক ঋণদাতা সংস্থার বোর্ড সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যে অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে বাংলাদেশ আইএমএফের কাছে ঋণের আবেদন করে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. মেজবাউল হক বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুরে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-আইএমএফের বৈঠকে দ্বিতীয় কিস্তি ৬৮ কোটি ৯৮ লাখ ডলার ঋণ চূড়ান্ত হয়েছে মঙ্গলবার। শুক্রবারের মধ্যে আমাদের অ্যাকাউন্টে (হিসাব) সে অর্থ যোগ হবে।’
প্রসঙ্গত: ২০২২ সালের জুলাইয়ে আইএমএফের কাছে ঋণের আবেদন করে বাংলাদেশ। ছয় মাস পর সংস্থাটি ৩০ জানুয়ারি ৪৭০ কোটি ডলার ঋণ দেবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়। এক্ষেত্রে আইএমএফের শর্ত অনুযায়ী ঋণ কর্মসূচির আওতায় সুনির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে সংস্কার করতে সম্মত হয় বাংলাদেশ। ফেব্রুয়ারিতে প্রথম কিস্তির ৪৭ কোটি ৬২ লাখ ডলার পাওয়ার আগে এবং পরে বাংলাদেশ তার আর্থিক খাত এবং এর নীতিগুলোর কাঠামোর সংস্কারের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানো এবং বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি কমানো। প্রথম কিস্তির তহবিল আসার পর এই সংস্কার কর্মসুচি অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ। অক্টোবরে ঋণ চুক্তির প্রথম পর্যায়ে ছাড় প্রাপ্ত তহবিল ব্যবহার পর্যালোচনা করতে আইএমএফের একটি দল বাংলাদেশে আসে। সে সময়ে আইএমএফের সঙ্গে একটি স্টাফ-লেভেল চুক্তিতে পৌঁছে বাংলাদেশ। সিদ্ধান্তটি ঋণ চুক্তির দ্বিতীয় কিস্তির তহবিল ছাড়ের পথ প্রশস্ত করে।