দুই হাত না থাকলেও নাশকতার চেষ্টার অভিযোগে মামলা হয় রফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। যথারীতি বুধবার (২২ নভেম্বর) রাজধানীর ভাটারা থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। পরদিন বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয় রফিকুলকে। অথচ প্রায় দুই যুগ আগে এক দুর্ঘটনায় দুই হাত হারিয়েছিলেন রফিকুল ইসলাম। অথচ সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গত ২৬ অক্টোবর করা একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এ মামলায় রফিকুল ছাড়াও জামায়াতে ইসলামীর ৬ সদস্যকে আটক করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ভাটারা থানা পুলিশ।
রফিকুলের পরিবার সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২২ নভেম্বর) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে রফিকুল বাসা থেকে বের হয়। এরপর ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়।
রফিকুলের স্ত্রী হাসিনা বেগম সাংবাদিকদের জানান, আমার স্বামী রফিকুল শারীরিকভাবে অসুস্থ ও পঙ্গু। ২০০১ সালে একটি বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হন। তার দুই হাতই তখন পুড়ে যায় এবং পরে কেটে ফেলতে হয়। তিনি আরো জানান, কারও সাহায্য ছাড়া রফিকুল কিছুই করতে পারেন না। কারও সাহায্য ছাড়া তিনি খেতেও পারেন না। এছাড়া, তিনি ডায়াবেটিসসহ নানা রোগে ভুগছেন। বুধবার (২২ নভেম্বর) ভোরে আমার স্বামী ফজরের নামাজ আদায় করে ভাটারার মাদানী এভিনিউতে হাঁটতে বের হন। এসময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা তাকে পিকেটার সন্দেহ করে নির্মম নির্যাতন করে পুলিশে সোপর্দ করে-যোগ করেন হাসিনা বেগম।
এ ব্যপারে ভাটারা থানার উপ-পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রেফতারকৃতরা জামায়াতের লোক। তারা মিছিল বের করার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাদের পুলিশে সোপর্দ করে। ’
ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মাইনুল হক সাংবাদিকদের বলেন, রফিকুলকে নাশকতা চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।