চিত্রনায়ক জায়েদ খান। যিনি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার গুঞ্জন শোনা গেলেও মনোনয়নপত্র কিনেননি। সবার ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে বিরত থাকলেন চলচ্চিত্রের আলোচিত এই নায়ক।
অভিনেতা জায়েদ খান বলেন, আমার হাতে এখন দেশ-বিদেশের অনেক কাজ। আপাতত এ কাজগুলো নিয়েই আমি ব্যস্ত। ইচ্ছা করেই আমি মনোনয়নপত্র কিনিনি। কারণ দুটি কাজ একসঙ্গে হয় না। আর আমাকে সংসদ সদস্য হিসেবে বিবেচনা করলে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ এমনিতেই আসবে। তিনি যখন মনে করবেন আমি তখন মনোনয়নপত্র কিনব, এখন নয়।
জায়েদ খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শিল্পীদের পছন্দ করেন। তিনি সংস্কৃতিমনা মানুষ। শিল্পীদের কাছে পেলেই আপন করে নিয়ে কথা বলেন। আর এতে অনেক শিল্পী মনে মনে ভেবে নিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তাকে এমপি বানাবেন।
এ চলচ্চিত্র শিল্পী বলেন, যারা রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে পাশে ছিলেন, তাদেরই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা চিন্তা করা উচিত। এবারের মনোনয়ন কেনা অনেক শিল্পীই দলের দুঃসময়ে ছিলেন না।
তিনি আরও বলেন, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় আওয়ামী লীগ বিরোধী দল ছিল। আমি ছাত্রলীগ করতাম, তখন রাজপথে ছিলাম। মার খেয়েছি। আমরা হলাম আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাকর্মী। রুবেল ভাই, সোহেল রানা ভাইও রাজপথের লোক। তারা আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে রাজপথে ছিলেন। আমি মনে করি আমরা যারা আওয়ামী লীগের খারাপ সময়ে পাশে ছিলাম, আমাদের মনোনয়নপত্র নেওয়া উচিত; কিন্তু দেখেন যারা মনোনয়নপত্র নিয়েছেন তারা অধিকাংশই বসন্তের কোকিল।
প্রসঙ্গত: আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম বিক্রি ও জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল মঙ্গলবার (২১ নভেম্বর)। এবার ৩০০ আসনে দলটির ৩ হাজার ৩৬২টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে। বিনোদন জগতের প্রায় ডজনখানেক তারকা দলের মনোনয়নপত্র কিনেছেন। বিনোদন জগতের তারকাদের মধ্যে চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২), সিমলা (ঝিনাইদহ-১), নায়ক মাসুদ পারভেজ রুবেল (বরিশাল-৩), সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী ও অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূর নীলফামারী-২ আসনের মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। এছাড়া অভিনেত্রী শমী কায়সার ও রোকেয়া প্রাচী (ফেনী-৩), অভিনেতা ড্যানি সিডাক (ঢাকা-১০) ও সিদ্দিকুর রহমান (ঢাকা-১৭ ও টাঙ্গাইল-১), চিত্রনায়ক শাকিল খান (বাগেরহাট-৩), গায়িকা মমতাজ বেগম (মানিকগঞ্জ-২) আসন থেকে, গায়ক এসডি রুবেল ঢাকা-৮, গীতিকবি সুজন হাজং (নেত্রকোনা-১) থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছেন।