ঘুষের রেট নির্ধারণ করে দেওয়া এসিল্যান্ড মাসুদুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার এসিল্যান্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। বুধবার (২০ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচবি আব্দুস সবুর মন্ডল বরখাস্তের ঐ আদেশ স্বাক্ষর করেন। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় তাকে দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা উচিত বলে মনে করছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
জমির মালিকানা অর্জনের পর গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ হচ্ছে সেই জমির নামজারি করা। পুরোনো মালিকের নাম বাদ দিয়ে নতুন মালিকের নামে জমির রেকর্ড সংশোধন করাকে নামজারি বা নাম খারিজ বলে। জমির পরিমাণ যাই হোক নামজারি করতে সরকার নির্ধারিত খরচ ১ হাজার ১৭০ টাকা। নাম খারিজের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন উপজেলা ভূমি অফিস ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা। এ কাজে অবৈধভাবে কত টাকা ভূমি মালিকদের কাছ থেকে আদায় করতে হবে, তারই এক ধরনের নির্দেশনা অধস্তনদের দিয়েছিলেন এসিল্যান্ড মাসুদুর রহমান। সেই নির্দেশনার অডিও রেকর্ড ফাঁস হয়।
গত জুলাই মাসে পিরোজপুরের নাজিরপুরে জমির নামজারি করার জন্য ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তারা ছয় হাজার টাকা ঘুষ নেবেন, এমন রেট নির্ধারণ করে দিয়েছেন এসিল্যান্ড বা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাসুদুর রহমান। ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাদের নিয়ে করা ওই সভার অডিও রেকর্ড সম্প্রতি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে। এর পরপরই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হয়।
বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার এসিল্যান্ড মাসুদুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার সুপারিশ করেন। এরপর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে আদেশ জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এর আগে এসিল্যান্ড মাসুদুর রহমানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জীব দাশ।