জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ঘোষণা করে রওশন এরশাদের নামে যে বিজ্ঞপ্তি এসেছে সে বিষয়ে রওশন এরশাদ কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন তার রাজনৈতিক সচিব গোলাম মসীহ। তার সত্যতা নাকচ করে তিনি বলেছেন, এটা একটা চক্রান্ত এবং এর প্রতিবাদ তারা জানাবেন। এইচ এম এরশাদের মৃত্যুর পর জাতীয় পার্টির কর্তৃত্ব নিয়ে তার স্ত্রী রওশন এরশাদ এবং ভাই জি এম কাদেরের বিরোধ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত বিষয়।
তখন জাতীয় পার্টির নেতাদের উদ্যোগে সমঝোতায় রওশন সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা এবং দলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হন, আর জি এম কাদের হন দলের চেয়ারম্যান ও সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা। তারপরও নেতৃত্ব নিয়ে টানাপড়েন চলছিল। তার মধ্যেই দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের কয়েক মাস আগে মঙ্গলবার (২২ আগষ্ট) রওশানের নামে বিজ্ঞপ্তি আসে সংবাদ মাধ্যমে, যেখানে তিনি নিজেকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করেন। মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি, নানা ধরনের মামলা-মোকদ্দমা এবং দল পরিচালনায় ‘অযোগ্যতা ও অসাংগঠনিক আচরণের কারণে’ কাদেরকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা বলা হয় তাতে।
রওশন এরশাদ লেখেন, ‘আমি বেগম রওশন এরশাদ, এমপি জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা কো-চেয়ারম্যান এই মর্মে ঘোষণা করছি যে পার্টির সিনিয়র নেতাদের পরামর্শে ও সিদ্ধান্তক্রমে দলের গতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করলাম।’
তবে এই বিজ্ঞপ্তি ‘ভুয়া’ বলে তখনই দাবি করেছিলেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু, যিনি দলে কাদেরের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। এই বিজ্ঞপ্তির সত্যতা জানতে চাইলে পরে রওশন এরশাদের রাজনৈতিক সচিব গোলাম মসীহ বলেন, আমার কাছে যখন ইনফর্মেশনটা এসেছে, তখন আমি ম্যাডামকে (রওশন) বিষয়টা জিজ্ঞাস করেছি, ম্যাডাম বলেছেন, বিষয়টা আমি জানিই না, কারা করেছে, এটা বের কর’। আমি তো জানিই না, ম্যাডামও জানেন না। এক প্রশ্নের উত্তরে গোলাম মসীহ বলেন, ‘পার্টির কিছু অতি উৎসাহী লোক থাকে না? কে করেছে, আমরা এটা বের করার চেষ্টা করছি।’