সাত বছরের শিশুকে সৎ পিতা পিটিয়ে মারার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের আজিবপুর বাগানবাড়ি এলাকার জাহাঙ্গীরের ভাড়াটিয়া বাসায় এ ঘটনাটি ঘটে। ২৪ এপ্রিল মারধরের শিকার হয়ে আব্দুল্লাহ নামে ঐ শিশুকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হপাসাতালে নিলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে। এ ঘটনায় বুধবার ওই শিশুর মা স্বপ্না আক্তার মুন্নী বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করলে বুধবার ভোরে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানা এলাকা থেকে ঘাতক আরিফকে গ্রেফতার করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ। বুধবার বিকেলে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হাবিবুর রহমান।
মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহতের মা স্বপ্না আক্তার মুন্নী তার ছেলে আব্দুল্লাহকে (৭) নিয়ে বর্তমান স্বামী আরিফের সাথে সিদ্ধিরগঞ্জের জাহাঙ্গীরের ভাড়াটিয়া বসবাস করে আসছিলেন। গ্রেপ্তারকৃত আরিফ তার ছেলেকে সহ্য করতে পারতেন না বলে উল্লেখ করা হয় মামলায়। বিভিন্ন সময় ছেলে আব্দুল্লাহকে অহেতুক মারধর করতেন তার বর্তমান স্বামী আরিফ। গত ২৪ এপ্রিল সোমবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আব্দুল্লাহকে মারধর করতে থাকেন। এক পর্যায়ে বাড়ীর গলির রাস্তায় টাঙ্গানো মইয়ে আব্দুল্লাহকে ঝুলিয়ে মারধর করেন এবং উপর থেকে ফেলে দেন। একই সময় আরিফ তার সৎ ছেলে আব্দুল্লাহকে দুই পা ধরে শূন্যে ভাসিয়ে দেয়ালের সাথে স্বজোরে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করেন। পরে আব্দুল্লাহর মা রাতে আব্দুল্লাহকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিতে চাইলে আরিফ তাতে বাধা প্রদান করেন। আব্দুল্লাহর অবস্থা অবনতি হলে ২৫ এপ্রিল মঙ্গলবার সৎ পিতা আরিফকে সঙ্গে নিয়ে তার মা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার আব্দুল্লাহকে মৃত ঘোষণা করেন। তখন সৎ বাবা আরিফ নিহত সৎ ছেলে আব্দুল্লাহর লাশ ও তার স্ত্রীকে সিএনজিতে তুলে দিয়ে তার লাশ দাফন করার পরামর্শ দিয়ে চলে যান। পরে স্বপ্না আক্তার মুন্নী তার মৃত ছেলের লাশ নিয়ে তার পূর্বের স্বামীর বাড়ী যাত্রাবাড়ী থানাধীন কাজলারপাড় এলাকায় দাফন করেন। এ ঘটনায় নিহতের মা স্বপ্না আক্তার মুন্নী বুধবার বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইয়াউর রহমান জানান, এ ঘটনায় জড়িত ঘাতক আরিফকে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানা এলাকা থেকে বুধবার ভোরে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবারই তাকে নারায়ণগঞ্জ আদালতে প্রেরণ করলে সে জুডিশিয়াল ম্যজিষ্ট্রেট মোনলিসা সনীর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেন।