মারা গেছেন তৃণমূল বিএনপির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। তিনি রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন সাবেক এ মন্ত্রী। রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে তিন দিন পূর্বে তাকে ভর্তি করা হয়। রোববার (১৯ ফেব্রুয়ারী) রাত সাড়ে ১০টায় তিনি মারা যান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তৃণমূল বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আক্কাস আলী খান।
১৯৪৩ সালের ৬ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন নাজমুল হুদা। একাধারে আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ ছিলেন। দেশের রাজনীতিতে নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছেন তিনি। ১৯৭৭ সালে জাগো দল গঠন করেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। সেসময় দলটিতে যোগ দেন নাজমুল হুদা। ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠিত হয়। দলটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন তিনি। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের যোগাযোগ মন্ত্রী ছিলেন নাজমুল হুদা। ১/১১ পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তার বিরুদ্ধে তিনটি দুর্নীতির মামলা হয়। ২০১০ সালের ২১ নভেম্বর তাকে দল থেকে বহিষ্কার করেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সেসময় দলটির ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন নাজমুল হুদা। তবে বহিষ্কৃত হলেও দলীয় কাজ করতে থাকেন তিনি। ফলে ২০১১ সালের ৫ এপ্রিল তার সদস্যপদ ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ২০১২ সালে ৬ জুন বিএনপি থেকে স্থায়ীভাবে পদত্যাগ করেন নাজমুল হুদা। পরে ১০ আগস্ট আবুল কালাম আজাদকে নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট (বিএনএফ) নামে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন তিনি। কিন্তু কয়েক মাস পর নাজমুল হুদাকে বিএনএফ থেকে বহিষ্কার করেন আবুল কালাম। ২০১৪ সালে এমপি হন তিনি। ২০১৪ সালের ৭ মে বাংলাদেশ জাতীয় জোট (বিএনএ) গঠন করেন নাজমুল হুদা। ২১ নভেম্বর বাংলাদেশ মানবাধিকার পার্টি (বিএমপি) নামে দল গঠন করেন তিনি। ২০১৫ সালের ২০ নভেম্বর তৃণমূল বিএনপি নামে আরও একটি নতুন দল গঠন করেন নাজমুল হুদা। সম্প্রতি দলটি নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ইসির নিবন্ধন পায়।