নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গ্যাসলাইনের ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় মঙ্গলী রানী (৩৫) নামের আরও এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (১২ নভেম্বর) সকালে স্থানীয় একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এ নিয়ে দুই নারীর মৃত্যু হলো। বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও আটজনের অবস্থা আশংকাজনক। তারা শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন ১০ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
শুক্রবার (১২ নভেম্বর) ভোরে ফতুল্লার লালখাঁর মোড়ে মোক্তার মিয়ার পাঁচতলা ভবনের নিচতলায় গ্যাসলাইনে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ওই ফ্ল্যাটের পাঁচটি কক্ষসহ পাশের আরও তিনটি বাড়ির দেয়াল উড়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, ভোর ৬টার সময় বিকট শব্দে ফ্ল্যাটে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে পাশের আরও তিনটি বাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। বিস্ফোরণে ফ্ল্যাটের পাঁচটি কক্ষ ও পাশের বাসার তিনটি বাড়ির তিনটি কক্ষের দেয়াল উড়ে গেছে।
এ সময় ঘুমন্ত অবস্থায় মায়া রানী ঘটনাস্থলেই দেয়ালের নিচে চাপা পড়ে মারা যান। তার দুই মেয়ে বৃষ্টি (১৪), সৃষ্টি (১০) ও এক ছেলে নির্জয়সহ (৩) জুমা (২১), রুমা (১২), সোহেল (২৬), তুলশি (৫০) ও দেড় বছরের শিশু বিশালী আহত হয়েছে।
তাদের সবাইকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
জানা গেছে, বিস্ফোরণের সময় মঙ্গলী রানী তার মেয়ে পূর্ণিমাকে নিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। বিস্ফোরণে দেয়ালের ইটের আঘাতে গুরুতর আহত হন মঙ্গলী ও তার মেয়ে। দুজনকে শহরের ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলী রানী মারা যান। তার মেয়ে পূর্ণিমাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন জানান, রান্নাঘরের গ্যাস কোনো কক্ষে জমে ছিল। তা থেকে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ জানান, বিস্ফোরণের ঘটনায় ১০ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি তদন্তের পর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি রকিবুজ্জামান জানান, দুই নারী নিহত হয়েছেন। আটজন শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া আহত আরও কয়েকজন স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।