বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন কপ-২৬-এ অংশ নিতে আগামী ৩১ অক্টোবর ঢাকা ছাড়বেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকও করবেন তিনি। বৈঠকটি এখনো চূড়ান্ত না হলেও দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন।
ন্যাম সম্মেলন থেকে যোগ দিয়ে দেশে ফিরে আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে পররাষ্ট্র ভবনে সাংবাদিকদের সফর সম্পর্কে বিস্তারিত জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন জলবায়ু সম্মেলনের সফর নিয়ে প্রশ্ন করলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন বলেন, ৩১ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে গ্লাসগোতে যাবেন। গ্লাসগোতে ১ থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত কপ-২৬-এর উচ্চ পর্যায়ের সভায় অংশ নেবেন। সেখানে ৪৮ তম ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামে (সিভিএফ) সভাপতি হিসেবে অংশ নেবেন তিনি। এ ছাড়া সাইড ইভেন্টে সিভিএফ ও কপ-২৬ উচ্চ পর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানও অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। আরও কিছু সভার প্রস্তাব আসছে, সেগুলো নিয়ে কাজ হচ্ছে।
তিনি বলেন, গ্লাসগো থেকে লন্ডন আসবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। লন্ডনে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের চেষ্টা চলছে। এ নিয়ে কাজ চলছে। আশা করছি বৈঠকটি হবে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বৈঠকটি গ্লাসগোতে করতে চাচ্ছে। আর বাংলাদেশ চাচ্ছে লন্ডনে বৈঠকটি করতে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, লন্ডন থেকে ফেরার পথে প্যারিস যাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অর্থনীতিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সৃজনশীল পুরস্কার বা ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ক্রিয়েটিভ অ্যাওয়ার্ড ইন ইকোনমিকস’ নিতে প্রধানমন্ত্রীর যাওয়ার কথা রয়েছে। ১১ নভেম্বর এ পুরস্কারটি দেওয়া হবে। এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এটি ইউনিসেফ আয়োজন করেছে।
ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া শান্তি সম্মেলন নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি জানান, আগামী ৪ থেকে ৬ ডিসেম্বর ঢাকায় বিশ্ব শান্তি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
রোমানিয়া বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, কোন কোন ক্ষেত্রে শ্রমিক লাগবে, কোন কোন ক্ষেত্রে আমরা দিতে পারব সেটা বিবেচনা করা হবে। এখন পর্যন্ত ১ হাজার শ্রমিক পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া রোমানিয়ায় কয়েকশ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। এক সময় বাংলাদেশিরা সেখানে পড়তে যেতেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি এখন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় দেখবে। শ্রমিক পাঠানোর বিষয়টি হবে সরকারিভাবে। বেসরকারি খাতকে এখানে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। ৮৬০ জন বাংলাদেশি সেখানে অবৈধ গিয়েছিল। পরে তাঁরা জার্মানি চলে যায়, সেখান থেকে এদের দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।