করোনার সংক্রমণ কমেছে। ফলে স্বাস্থ্যবিধি মানায় সব জায়গায়ই এখন গা-ছাড়া ভাব। বাড়ির বাইরে বেশির ভাগ মানুষই এখন আর মাস্ক পরছেন না। মাস্ক ছাড়া কেউ বাইরে বের হলে তাঁদের জরিমানার ক্ষমতা পুলিশকে দেওয়া নিয়ে আলোচনা হলেও তাদের সেই ক্ষমতা দেওয়া হয়নি।
সবাইকে বাধ্যতামূলক মাস্ক পরাতে পুলিশকে জরিমানার ক্ষমতা দেওয়া হতে পারে বলে সরকারের মন্ত্রীরা বলে আসছিলেন। গত ৩ আগস্ট সচিবালয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে আন্তমন্ত্রণালয় সভার পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, টিকার পাশাপাশি মাস্ক পরতে হবে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এটাকে যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে চাই, তাহলে পুলিশকে ক্ষমতা দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। যারা মাস্ক পরবে না, তাদের কিছুটা হলেও তারা যাতে জরিমানা করতে পারে। এ জন্য অধ্যাদেশ লাগবে। আলোচনা হয়েছে, হয়তোবা আমরা সেদিকেও যাব। ওই দিন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, আবেদন-নিবেদনের পরও যাঁরা মাস্ক পরবেন না, আইন করে তাঁদের শাস্তি দেওয়া হতে পারে।
সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন অনুযায়ী, সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলের উদ্দেশ্যে মহাপরিচালক, সিভিল সার্জন বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কোনো নির্দেশ পালনে অসম্মতি জানালে, তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ জন্য অনূর্ধ্ব তিন মাস কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে। কোনো ব্যক্তি সংক্রামক রোগ সম্পর্কে সঠিক তথ্য জেনেও ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বা ভুল তথ্য দিলে অনূর্ধ্ব দুই মাস কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এই আইনের অধীন সংঘটিত কোনো অপরাধের অভিযোগ দায়ের, তদন্ত, বিচার ও আপিল নিষ্পত্তি ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী করা যাবে।
স্বাস্থ্যবিধি মানাতে পুলিশকে জরিমানার ক্ষমতা দিয়ে সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন সংশোধন করা হলেই যাঁরা মাস্ক পরছেন না, তাঁদের জরিমানা করতে পারবে পুলিশ। তবে করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসায় পুলিশকে সেই ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার দেওয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।