নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে উত্তাল রয়েছে ভারত। একের পর এক রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ছে বিক্ষোভ। এবার উত্তর প্রদেশের মতো বিহারে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সেখানে জনতার সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে গুলিতে অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছে।
শনিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম কলকাতা ২৪-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানী শহরে সকাল থেকেই অবরোধ সমর্থনকারী আর জে ডি এবং কংগ্রেস রাস্তায় নেমে পড়ে। সংশোধিত নাগরিক আইন বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন স্থানে শুরু হয় অবরোধ। উত্তর বিহারে অবরোধের কারণে ট্রেন চলাচল বিপর্যস্ত হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদবের নেতৃত্বে অবরোধ পালনকারীরা আইন বাতিলের জন্য বিশাল জমায়েত করেন। এদিকে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার এনআরসির বিরোধিতায় সরব হন। এতে এনডিএ শিবিরে প্রবল চাঞ্চল্য ছড়ায়। বেলা গড়াতেই পাটনার কাছে অবরোধ সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়। ভিড়ের মধ্যেই ছুরি মারা হয় কয়েকজনকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ এলে সংঘর্ষ আরও ব্যাপক আকার নেয়। গুলি করে পুলিশ। তাতে জখম হন ১৩ জন। আহত হন সাংবাদিকরা।
এদিকে পাটনায় বেশ কিছু পুলিশের জিপ ভাঙচুর হয়েছে। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরোধিতায় আসাম ও ত্রিপুরার রেশ ধরে একের পর এক রাজ্যে ছড়াচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার বিরোধী বিক্ষোভের রেশ।
এদিকে বিক্ষোভে বিভিন্ন রাজ্যে শুক্রবার থেকে শনিবার পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ জনে। এছাড়া কয়েকশ মানুষ আটক করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মীরাটে নিহত হয়েছে চারজন। দুজন করে ফিরোজাবাদ ও বিজনরে মারা গেছেন। সম্ভাল, কমপুর, বারাণসী এবং লখনউতে একজন করে মারা গেছেন। উত্তর প্রদেশে ছয়জন নিহত হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা বলছেন, এসব হতাহতের ঘটনা পুলিশের গুলিতে হয়েছে।
উত্তর প্রদেশের ডিরেক্টর জেনারেল পুলিশ ওপি সিং বলেছেন, নিহতদের কেউ পুলিশের গুলিতে মারা যায়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পুলিশের গুলি চালানোর ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।
এমন পরিস্থিতি ভারতের উত্তরপূর্ব রাজ্যগুলিতে ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও ফ্রান্স।খবর ইত্তেফাক।