রূপগঞ্জে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে দ্বন্ধকে কেন্দ্র করেই চেয়ারম্যান সমর্থকরা সোলমান (৩০) নামে এক যুবলীগ কর্মীকে ইট দিয়ে মাথা থেতলে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে বলে দাবি করেছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা।
উপজেলার মাহমুদাবাদ এলাকার সালাউদ্দিনের ছেলে বহু মামলার আসামি সোলায়মান মিয়া (৩৭) গতকাল দুপুরে গণপিটুনিতে নিহত হয়েছে। সোলায়মানের বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, ছিনতাই, অস্ত্র, চাঁদাবাজি, নারী নির্যাতন সহ রূপগঞ্জ, সিদ্ধিরগঞ্জ, সোনারগাঁ ও আড়াইহাজার থানায় বহু মামলা রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে অস্ত্রে শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ১০/১২ জন যুবক তারাবো পৌরসভার গন্ধর্বপুর নামাপাড়া এলাকায় প্রবেশ করে। গ্রামবাসীর ধারণা ডাকাতি কিংবা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের জন্য তারা নামাপাড়া এলাকায় আসে। তখন গ্রামবাসীরা গন্ধর্বপুর নামাপাড়া দারুলউলুম জামে মসজিদের মাইকে গ্রামে ডাকাত প্রবেশ করছে মর্মে ঘোষণা দেওয়া হয়।
গ্রামবাসীরা বহিরাগত এ যুবকদের ধাওয়া করলে ফাঁকা গুলিবর্ষণ করতে করতে তারা পালিয়ে যেতে চেষ্টা করে। শিশু ও মহিলারা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। তখন উত্তেজিত গ্রামবাসী যুবকদের ঘেরাও করে সোলায়মানকে ঝাপটে ধরে গণপিটুনি দেয়।
আরও পড়ুন: নারায়ণগঞ্জে ছেলে হত্যার অভিযুক্ত মায়ের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার –
একপর্যায়ে সোলায়মান মিয়াকে উদ্ধার করে প্রথমে কর্ণগোপ এলাকার ইউএস বাংলা হাসপাতালে ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সোলায়মান মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর ১০/১১ জন যুবক পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। নিহত সোলায়মানের মাথায়, পিঠে, হাতে সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের দাগ রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা সহকারী পুলিশ সুপার আবির হোসান ও রূপগঞ্জ থানার ওসি এ এফ এম সায়েদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ব্যপারে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ এফ এম সায়েদ বলেন, নিহত সোলায়মানের বিরুদ্ধে হত্যা, নারী নির্যাতন, অস্ত্র, ডাকাতি, চাঁদাবাজি সহ বহু মামলা রয়েছে। তবে কি ঘটনায় সোলায়মানকে হত্যা করা হয়েছে তা সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ।