“একের রক্ত অন্যের জীবন, রক্তই হোক আত্মার বাঁধন”, এই শ্লোগানকে কেন্দ্র করে শরীয়তপুর সরকারি কলেজ বাঁধন ইউনিট ২০২০ সালে ৫০৩ ব্যাগ রক্ত যোগার করতে সক্ষম হয়েছে। শুধু তাই নয় নতুন রক্তদাতা হিসেবে যোগ দিয়েছেন ১৬২জন।
রক্তদানের উল্লেখ্য সংগঠনটি করোনায় আক্রান্ত রোগীদের প্লাজমা নিয়েও কাজ করেছে। রক্তদাতা সংকটের সাথে লকডাউনের সময় রক্তদাতাদের যাতায়াতে নানা বাঁধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। অধিকাংশ রক্তদাতা পুলিশের বাঁধার যেরে রক্ত দিতে যেয়ে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন।
তবুও সকল বাঁধা-বিপত্তি অতিক্রম করে, কলেজের বাঁধনকর্মীরা রক্ত বা প্লাজমা নিয়ে রোগির কাছে হাজির হয়েছেন। উল্লেখিত, জনকল্যাণমূলক কাজে কেউ কেউ কোভিট-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য মতে, এ বছর সর্বোচ্চ রক্ত সংগ্রহ করা হয়েছিল নভেম্বর মাসে। এ মাসে ৬৭ ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করে সংগঠনটি। এছাড়া ৩৪, ৫০, ৩৩, ২২,২৪,৩৪,২২,৫৫,৫৩,৩৮,৫৭,৩৫ ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করেছে যথাক্রমে , জানুয়ারি,ফেব্রুয়ারি, মার্চ,এপ্রিল, মে,জুন,জুলাই, অক্টোবর ,ও ডিসেম্বর মাসে। তবে করোনায় স্থবিরতা থাকায় এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রক্তের যোগান তুলনামূলক কম হয়েছে।
তাছাড়া গতবছরের তুলনায় এবছর করোনার জেরে নতুন রক্তদাতা ও রক্ত সংগ্রহ দুটোই কম ছিল।
বাঁধন, শরীয়তপুর সরকারি কলেজ ইউনিটের সভাপতি মাহবুব হাসান মানিক জানান,
“বাঁধন শরীয়তপুর সরকারি কলেজ ইউনিটের সকল কর্মীদের নিয়ে আমি গর্বিত। কেননা এই করোনার সময়ে ও অনেক ঝুঁকি নিয়ে তারা ডোনার সাথে নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে গিয়েছে। যে কারণে এমন সংকটেও এত ব্লাড ম্যানেজ করা সম্ভব হয়েছে । এছাড়া ও ওই সকল ডোনার ও শুভাকাঙ্খীদের জানাচ্ছি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। তাদের ত্যাগের বিনিময়ে জীবন ফিরে পায় অন্য কেউ। ”
তিনি আরও বলেন, “সর্বোপরি সকলের দোয়া ও সহযোগিতা নিয়ে আমরা আরও সামনে এগিয়ে যেতে চাই। আমরা স্বপ্ন দেখি সেই দিনের, যে দিন দেশের সকল মানুষ তার রক্তের গ্রুপ জানবে এবং স্বেচ্ছায় রক্তদানে এগিয়ে আসবে।”
উল্লেখ্য, স্বেচ্ছায় রক্তদানকে একটি সামাজিক আন্দোলন হিসেবে গড়ে তোলার মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে ২০১৮ সালের ১৪ই জানুয়ারি শরীয়তপুর কলেজে বাঁধনের অঙ্গ সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয়। অসম্ভব প্রাণশক্তি নিয়ে মুমূর্ষের জন্য রক্তের প্রয়োজনে নিরলস খেটে যাচ্ছে অজস্র কর্মী । তারই পরিশ্রমের ফসল হিসেবে আজকের এই অর্জন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।