আশিক আহমেদ উল্লাশ ,ফ্রান্স থেকে
ফ্রান্স পশ্চিম ইউরোপে অবস্থিত পৃথিবীর সব থেকে পুরাতন দেশ গুলোর মধ্যে একটি দেশ । এদেশের আয়তন ৬,৪০,৬৭৯ বর্গ কিলোমিটার। যা পৃথিবীতে আয়তন হিসেবে ৪২ তম। এদেশের জনসংখ্যা ৬৭.১৫ মিলিয়ন। এদেশের জনসংখ্যার প্রায় ৮৯.৪ শতাংশ মানুষ ফরাসি।সাংবিধানিক অধিকার অনুযায়ী এখানে সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার আছে।সবশেষ শুমারি অনুযায়ী এখানে ৫১.১শতাংশ খ্রিস্টান,৩৯.৬শতাংশ কোন ধর্মে বিশ্বাসী নয় এমন মানুষ।
৫.৬ শতাংশ ইসলাম ০.৮ শতাংশ ইহুদি, ২.৫ শতাংশ অন্য ধর্মের এবং ০.৪ শতাংশ অমিমাংসিত ধর্মের লোক বসবাস করে। ফ্রান্স এ প্রায় ২৩০০ মসজিদ রয়েছে । মসজিদ এ মাইক এর মাধ্যমে আজান দেওয়ার বিধান না থাকলেও ওয়াক্ত নামাজ, জুম্মার নামাজ,তারাবির নামাজ, ঈদের নামাজ সহ সব ধরনের ইবাদত বন্দেগীর জন্য মসজিদ খোলা রয়েছে। আমার বাসা থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দুরে একটি মসজিদ রয়েছে।

সাধারণত জুম্মার নামাজ ও ঈদের নামাজ সেখানেই পড়া হয়। এখানে ঈদগাহে নামাজ পড়ার সুযোগ নেই বললেই চলে। করোনা ভাইরাস মহামারীর কারনে ফ্রান্সে দুই মাস এর বেশি সময় ধরে লকডাউন চলছিল।গত ১১ মে শর্ত সাপেক্ষে লকডাউন শিথিল করা হলেও মসজিদ,মন্দির,গির্জাগুলো খুলে দেওয়া হয়নি এখনো।আমি সহ আরো তিন জন আমরা একই ফ্ল্যাটে থাকি।নিয়মিত নামাজ একসঙ্গে আদায় করেলেও আদায় হচ্ছে না জুম্মার নামাজ। উদ্বিগ্ন ছিলাম ঈদের নামাজ নিয়েও। বাংলাদেশ থেকে প্রায় দশ হাজার কিলোমিটার দূরে পরিবার পরিজন ছাড়া ঈদ বলতে বুঝি ঈদের নামাজ আর দেশীয় খাবার এর স্বাদ নেওয়া।কখনো কখনো এইটুকু থেকেও বঞ্চিত হই কর্মক্ষেত্র থেকে ছুটি না পাওয়ার কারনে।
বাংলাদেশ থেকে একদিন আগেই প্রবাসে ঈদ পালন করলাম। এখানে রাষ্ট্রীয় কোন চাঁদ দেখা কমিটি নেই । মুসলিম কমিউনিটির মুফতি কর্তৃক ঈদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সেই অনুযায়ী ফ্রান্সে ২৪ মে তারিখ ঈদ পালনের ঘোষনা করা হয়।
সিদ্ধান্ত নিলাম বাসায় ই ঈদের নামাজ পরবো কিন্তু সমস্যা তৈরি হলো নামাজের খুদবা নিয়ে। উল্লেখ্য আমাদের কারোরই খুদবা পড়ার কোন পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই। অবশেষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারলাম খুদবা ছাড়াও নামাজ আদায় করলে নামাজ হবে ।
চারজন মিলে আমাদের ড্রইংরুমে ঈদের নামাজ আদায় করলাম। সবাই মিলে দেশীয় খাবার তৈরি করলাম।আমার বাসা থেকে একটু দূরে বাংলদেশী হিন্দু ধর্মালম্বী ছোট ভাই রতন পোদ্দার থাকে তাকে ও দাওয়াত করলাম । সবাই খাওয়া দাওয়া গল্প আড্ডায় ঈদ উদযাপন করলাম। ভিড়ে নয়, নিড়ে কাটুক এবারের ঈদ । সুখ আর আনন্দে ভরে উঠুক সবার জীবন। ঈদ মোবারক।